Monday 19 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শামীম হত্যা মামলা: আদালতে আমিনীর দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:১৫

গ্রেফতার ফজলুল হক আমিনী।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক নুসরত জাহানের খাস কামরায় তিনি এ জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন। তার জবানবন্দি শেষ হয় রাত ৯.৩০টার দিকে।

গ্রেফতার ফজলুল হক দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের কারী রুহুল আমিনের ছেলে।

কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের হাজী রুহুল কুদ্দুস মুন্সির ছেলে বসির আহম্মেদ জানান, ফজলুল হক আমিনী তার আপন চাচাতো ভাই। তার জন্ম ফরিদপুর গ্রামে। ২৮ বছর আগে তার চাচা কারি রুহুল আমিন সপরিবারে দেবহাটার দক্ষিণ পারুলিয়ায় বসবাস শুরু করেন। ফজলুল হক ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকানির্বাহ করতেন। ওয়াহেদুজ্জামান ওরফে শামীমকে হত্যার পর তিনি তার বাড়িতে চলে আসেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে তিনি তার ছেলে ও স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে আদালতে আত্মসমর্পণের ব্যাপারে তার সঙ্গে পরামর্শ করেন। বসির তাকে স্থানীয় বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে বলেন। একপর্যায়ে বাথরুম থেকে ফেরার পর চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন। এরই মধ্যে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসআরবি সদস্যরা তার বাড়িতে ঢুকে পড়ে এবং রাত পৌনে ১১টার দিকে এসআরবি তাকে নিয়ে যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক আল আমিন জানান, শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ফজলুল হক আমিনীকে তার চাচাতো ভাইয়র বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার তাকে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারকি হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক নুসরত জাহানের খাস কামরায় হাজির করা হয়। এ সময় তিনি নিজেকে ওয়াহেদুজ্জামান হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালতের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, ফজলুল হক আমিনী তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন যে, ওয়াহেদুজ্জামান শামীম নাস্তিক ছিল। তাকে মারার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না, এক্সিডেন্টলি হয়ে গেছে। আপাতত আইনের দৃষ্টিতে তিনি অপরাধী হলেও আল্লাহর দৃষ্টিতে তিনি কি, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা কারা জড়িত তাদের নাম প্রকাশ করেন।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, জবানবন্দি শেষে ফজলুল হক আমিনীকে রবিবার রাত ৯টার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেবহাটা উপজেলার বড়শান্তা গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম ১০/১২ বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন। তিনি মহানবীকে (স) কটূক্তি করেছেন এমন একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে তার বাড়ি ভাঙচুর করা হয় ও তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে শামীমকে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় একই ব্যক্তির নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় ওয়াহেদুজ্জামান শামীমের উপর হামলা চালানো হয়।

পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার পর একই ব্যক্তির নেতৃত্বে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে ডাক্তার, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সামনে তৃতীয় দফায় মারপিট করা হয়। সেখান থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদি হয়ে ফজলুল হক আমিনী, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম, ৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি কামরুল গাজীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার হোসেন খান ও ১৬ অক্টোবর সকালে নিজ বাড়ি নাজিরের ঘের থেকে আসাদুল্লাহ মোল্ল্যা নামের দুই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর