ঢাকা: শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমীতে দেবীর জীবন্ত প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা। প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ আয়োজন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে নির্দিষ্ট শুভলগ্নে রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
এতে এবার দেবী দুর্গার ‘উমা’ রূপ কল্পনা করে পূজা করা হয় ৬ বছর বয়সি শিশু ইর্যা চক্রবর্তীকে। শাস্ত্রমতে, ছয় বছর বয়সি কুমারীকে ‘উমা’ নামে অভিহিত করা হয়।
পূজার শুরুতেই সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে শিশু ইর্যাকে নতুন পোশাক, অলংকার, কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দিয়ে দেবীরূপে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর পুরোহিতরা ষোড়শোপচারে মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ-দীপ, আরতি ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে দেবীজ্ঞানে তার চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন। পূজা শেষে কুমারী আশীর্বাদ করে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলে, ‘সবার মঙ্গল হোক।’

মণ্ডপে ভক্তরা। ছবি: সারাবাংলা।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যে বিশ্বশক্তি ব্রহ্মাণ্ড পরিচালনা করছে, সেই মাতৃ শক্তি কুমারী শিশুর মধ্যে বীজ আকারে অবস্থান করে। নারীজাতির প্রতি শ্রদ্ধা, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও ঈশ্বর আরাধনার অংশ হিসেবেই দুর্গাপূজার অষ্টমীতে এই কুমারী পূজার বিধান রাখা হয়েছে। সাধক রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ও স্বামী বিবেকানন্দের হাত ধরে রামকৃষ্ণ মিশনের কেন্দ্রগুলোতে এই পূজার সূচনা ও ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়ে আসছে।
সকাল থেকেই রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। ঢাকের বাদ্য, চণ্ডীপাঠ ও ভক্তদের আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিশন এলাকা। ভক্তরা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে কুমারী রূপী উমাকে দর্শন করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় প্রণাম নিবেদন করেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় মিশন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা।