রংপুর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর আগমন উপলক্ষ্যে তার সম্মানার্থে মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর সব দোকানপাট ও ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। নগরীর প্রধান সড়ক, বাজার ও বিপণিবিতানগুলোতে দেখা গেছে ব্যাপক সাড়া-স্বতঃস্ফূর্তভাবে শাটার নামিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা সরকারপ্রধানের প্রতি ব্যবসায়ী সমাজের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নগরীর কাছারী বাজার, সিও বাজার, গ্র্যান্ড হোটেল মোড়, জাহাজ কোম্পানি মোড়, পায়রা চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে সকাল থেকেই দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি না বললেও তার সম্মানে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা ও যানজট এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নগরজুড়ে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সড়ক ও রোড ডিভাইডারগুলো ধুয়ে-মুছে রং করা হয়েছে এবং ডিভাইডারে লাগানো হয়েছে ছোট ছোট ফুলের গাছ। এরই মধ্যে নগরীর প্রধান সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করে পরিষ্কার করা হয়েছে। নগরীর বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে সিটি করপোরেশন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, শারদীয় দুর্গোৎসব কমিটি, সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ এবং রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো বিশাল বিশাল ব্যানার।

প্রধানমন্ত্রীর সম্মানার্থে বন্ধ রাখা হয়েছে দোকানপাট।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় চার স্তরের কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে ডগ স্কোয়াড। এসএসএফ, পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে নিয়োজিত রাখা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। নগরীর প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট।
প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে নগরীর স্টেশন রোড এলাকার ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। রাধাগোবিন্দ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে রংপুরে আসছেন। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মুখিয়ে আছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে আরও ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সেই উৎসাহেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।