রংপুর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই দেশটি ১০০০ বছর ধরে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলছে। শান্তিতে আমরা সবাই মিলে বসবাস করছি। আমরা চাই বিগত ১০০০ বছর ধরে যেমন আমরা প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ এই দেশে শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করেছি, আগামী ১০০০ বছরেও যাতে আমরা একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন।
এর আগে তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে যখন মানুষ রাজপথে নেমেছিল, সেই আন্দোলনেও সব ধর্মের মানুষ ছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশ নিয়েছিল।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে এই দেশটিকে স্বাধীন করেছিলাম, তখন কিন্তু আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি। প্রত্যেকটি মানুষ, বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল। ’
তিনি সবাইকে বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে কেউ বিতর্কিত করার চেষ্টা করলে তার ফলাফল কখনো শুভ হয়নি। যাদের কিছু বলার আছে, তারা যেন সংসদে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা তুলে ধরে।
সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সব এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চায়-যারা ভোট দিয়েছে এবং যারা দেয়নি, সবার সরকার হতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, রংপুর মহানগরীর উন্নয়নের জন্য এরই মধ্যে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের মাধ্যমে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো-ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ-পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার জন্য ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং এর সুবিধা পাচ্ছেন প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ কৃষক। এছাড়া চালু হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্দিরের পেছনে নির্মাণাধীন হোস্টেল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনাতন সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ আর্থিকভাবে অসচ্ছল, যারা গ্রাম থেকে শহরে এসে থাকতে কষ্ট পান, তাদের জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করছে। এই ভবনের কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, আরও অর্থ প্রয়োজন। তিনি এরই মধ্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আগামী দুই বছরের মধ্যে কাজটি সম্পূর্ণ করা হয়।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আসুন আমরা আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করি। আমরা আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করি, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করি এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখি।’ তিনি উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সকলে ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।’