Wednesday 21 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দেবীর বিদায়বেলায় সিঁদুর খেলায় মেতেছেন ভক্তরা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২১ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৪৪

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নাচ-গান, আনন্দে চলছে সিঁদুর খেলা। ছবি: সারাবাংলা

‎ঢাকা: ঢাকের বাদ্য, কাঁসরের ধ্বনি আর শাঁখের সানাইয়ে চারপাশ জুড়ে আজ যেন আনন্দ আর বিষাদের রুপ। উচ্ছ্বাসের রঙে মাখামাখি আনন্দের মাঝেই আজ বেজে উঠছে বিদায়ের করুণ সুর।

বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সাঙ্গ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

টানা ৬ দিনের দেবী বন্দনা শেষে বিজয়ার সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের প্রতিটি পূজা মণ্ডপে ফুটে ওঠে এক স্বর্গীয় ও আবেগঘন আবহ। সুরের মূর্ছনা আর ধূপের ধোঁয়ায় মাখানো এই বিদায়বেলায় দেবীকে অন্তরের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ভক্তরা, যার মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে রঙিন সিঁদুর খেলা। ‎ঢাকের তালে তালে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলেন নারী ভক্তরা। একে অপরের কপালে, গালে ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে শুভকামনা আর ভালোবাসায় রাঙিয়ে তুললেন বিদায়ের মুহূর্ত।

বিজ্ঞাপন

ভক্তরা একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দিচ্ছেন। ছবি: সারাবাংলা

মণ্ডপে মণ্ডপে বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর ছুঁইয়ে দেন, পান-মিষ্টি নিবেদন করেন এবং নিজেদের স্বামীদের দীর্ঘায়ু ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন। নারীরা একে অপরের কপালে, গালে সিঁদুর মেখে একে অপরকে শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান। বিবাহিত নারীদের পাশাপাশি অবিবাহিত তরুণী এবং সাধারণ ভক্তরাও এই সিঁদুরের রঙে নিজেদের রাঙিয়ে উৎসবে শামিল হন।

‎সিঁদুর খেলায় অংশ নেওয়া ভক্তদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দ আর বিষাদের মিশ্র অনুভূতি। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মণ্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠা গৃহিণী সুচরিতা সেন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, মায়ের কাছে আমাদের একটাই প্রার্থনা, তিনি যেন সবার পরিবারে শান্তি আর সুস্থতা বজায় রাখেন। সারাবছর আমরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করি। সিঁদুর খেলার মাধ্যমে আমরা পরস্পরের কল্যাণ কামনা করি। প্রতি বছরই মা আসেন আনন্দের বার্তা নিয়ে, আবার বিদায়ের সময় মনটা ভার হয়ে যায়। তবে বিশ্বাস করি, মা আগামী বছর আবারও নতুন আলো নিয়ে আমাদের মাঝে ফিরবেন।

দেবীর বিদায়বেলায় সিঁদুর খেলায় মেতেছেন ভক্তরা। ছবি: সারাবাংলা।

‎‎লাল সাদা শাড়ীতে উৎসবে অংশ নেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অনু বলেন, দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের সম্প্রীতি ও মিলনমেলা। দেশের সব মানুষের মধ্যে যেন এই সম্প্রীতি আর ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকে, মায়ের চরণকমলে এটাই আমার চাওয়া। অশুভশক্তি বিনাশ হয়ে সমাজে সত্য ও সুন্দরের জয় হোক।

‎পরিবার নিয়ে পূজামণ্ডপে আসা ব্যবসায়ী প্রদীপ কর্মকার আনন্দ অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, উৎসবের এই কটা দিন কীভাবে কেটে গেল টের পেলাম না। বিজয়া দশমী মানেই একধরণের শূন্যতা। তবে দেবীর কাছে প্রার্থনা করেছি আমাদের ব্যবসাবাণিজ্য ও অর্থনীতি যেন সুন্দর থাকে, দেশ যেন সব ধরনের সংকট কাটিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়। মা যেন আমাদের সবাইকে সুখে-শান্তিতে রাখেন।

পূজার শেষদিনে সুসজ্জিত কলস যাত্রায় অংশ নিয়েছেন ভক্তরা। ছবি: সারাবাংলা।

‎‎পূজা প্রাঙ্গণে প্রবীণ লিপি দাস আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘বয়সের ভারে এখন আর আগের মতো ছোটাছুটি করতে পারি না, তবে মণ্ডপে না এলে মন মানছিল না। দেবীর কাছে একটাই আরতি, আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেন সৎ, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধে বড় হয়ে ওঠে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবাই যেন একসাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারি, বিজয়ার দিনে মায়ের চরণে, এই আমার বিনীত মিনতি।’

‎‎মায়ের কাছে ভক্তদের মূল আকুতি ছিল অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিস্তার। রক্তিম সিঁদুরের আবীরে রাঙানো প্রতিটি মুখ যেন বিষাদের মাঝেও এক পরম প্রাপ্তির স্বাক্ষর বইছে। বিকেলের বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা শেষে নদীর শান্ত জলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়েই মর্ত্যলোক থেকে দেবীর বিদায় সম্পূর্ণ হবে। চোখজুড়ে ছলছল জল আর হৃদয়ে ‘আসছে বছর আবার হবে’র বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে ভক্তরা মা দুর্গাকে বিদায় জানালেও, সেই বিদায়ের সুরেই মিশে রইল নতুন এক ভোরের শুভকামনা ও সার্বজনীন শান্তির বার্তা।

‎

 

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর