Wednesday 21 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জিম্বাবুয়ের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও বিধ্বস্ত হয়ে বিদায় বাংলাদেশ

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
২২ অক্টোবর ২০২৬ ০১:০৬

ব্যাটিংয়ে বিপর্যয়, বোলিংয়ে শুরুতে আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত হলো না বিশেষ কিছু। জিম্বাবুয়ের পর আফগানিস্তানের কাছেও হেরে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ থেকে খালিহাতেই বিদায় নিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ১৬০ রানেই গুটিয়ে গেলে পরে রান তাড়া করতে নেমে ৮৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে জিতেছে আফগানিস্তান। তাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার স্বপ্নও শেষ হয়েছে বাংলাদেশের।

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে ফাইনালে যেতে আফগানিস্তানকে হারাতে হতো বড় ব্যবধানে। কিন্তু বড় ব্যবধানে হারানো কী, উল্টো নিজেরাই হারতে হলো বড় ব্যবধানে!

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২১ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট ছিল জিততে হবে নূন্যতম ৪১ রানের ব্যবধানে। কিন্তু ব্যাটাররা স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রানই জমা করতে পারেননি।

বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ১৬০ রানে গুটিয়ে গেলে পরে ১১৯ রানেই আফগানদের গুটিয়ে দেওয়ার সমীকরণ দাঁড়ায়। কিন্তু শারজাহর ব্যাটিং সহায়ক পিচে শুরুটা ভালো হলেও পরে আর কঠিন কাজটা করতে পারেননি বাংলাদেশি বোলাররা। বোলিংয়ে শুরুতে দুই উইকেট তুলে নিয়ে লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় ওভারে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ৬ রানে বোল্ড করার পর সপ্তম ওভারে সিদিকউল্লাহ আতালকেও ৪ রানে বোল্ড করেন তিনি। কিন্তু এরপর আর আফগানিস্তানের ব্যাটারদের চাপে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।

ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহর জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ইব্রাহিমের বিদায়ের পরও জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। অধিনায়ক রহমত শাহ ৬৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। হাশমতউল্লাহ শহীদি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন নেন ২ উইকেট, মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার ১টি।

এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের শুরুটা হয় নাজুক। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই পরপর দুই বলে ফেরেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তানজিদ হাসান তামিম ও তিনে নামা সৌম্য সরকার। চারে নেমে হাল ধরার চেষ্টা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত, কিন্তু শান্তও ব্যর্থ। ২৩ রানে ৩টি চারের সাহায্যে ১৫ রান করে ফিরেছেন দলের ২৭ রানের মাথায়। দলীয় ২৮ রানের মাথায় ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ও ফিরলে বাংলাদেশ পরে কঠিন চাপে। বড় স্কোর গড়ার রাস্তা মূলত সেখানেই কঠিন হয়ে পরে। পরে বড় স্কোর গড়তেও পারেনি বাংলাদেশ।

দ্রুত চার উইকেট হারানোর পর ওপেনার সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন অবশ্য দলকে টানার চেষ্টা করে গেছেন। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১৪৭ বল খেলে ৯৩ রান তোলেন দুজন। একটা সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১২১। সেখান থেকে বড় স্কোরের দিকে যাওয়ার বড় সুযোগ ছিল। কিন্তু এই জুটি ভাঙতেই আবারও হুড়মুড় করে ভেঙে পরে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।

৮২ বলে ২টি চার ১টি ছয়ে ৪১ রান করে মোহাম্মদ নবির বলে ফেরেন সাইফ হাসান। দুদিন আগে দেশ থেকে উড়ে যাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন ৯৬ বলে ৭০ রান। তরুণ ইমনের ইনিংসে চার ৫টি, ছক্কা ২টি। এই দুজন ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে দুই অঙ্কের কোটা পেরুতে পেরেছেন কেবল নাজমুল শান্ত (১৫)!

ইনজুরি কাটিয়ে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের জায়গায় দলে ফেরা মেহেদি হাসান মিরাজ রান পাননি। শেষ দিকের ব্যাটাররাও আজ ব্যর্থ। যাতে ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের হয়ে রশিদ খান ৮.২ ওভরে ৩২ রান দিয়ে নিয়েছেন চার উইকেট।

সারাবাংলা/এসএইচএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর