Friday 23 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১১

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে সরকারের গত ৭ মাসের কার্যক্রমে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। গণবিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করতে কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার ও সবজির পাইকারি কেন্দ্র থেকে এই প্রচার কার্যক্রম শুরু করে এনসিপি।

বিজ্ঞাপন

সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ৭ মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন। সংবিধান সংশোধন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা উপেক্ষিত হচ্ছে। দেশজুড়ে সাংবাদিক নির্যাতন, খুন, ডাকাতি ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি খাতেও সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়ছেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের এই সার্বিক ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে নিতে হবে। তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। গত ৭ মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে পারেননি। তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত, সংবিধান কাটাছেঁড়া করছেন, যাতে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী কায়দায় জনগণের অধিকার স্থায়ীভাবে হরণ করা যায়। ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্দিন আহমেদের এই দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’

জ্বালানিমন্ত্রীর সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘জ্বালানিমন্ত্রীকে কথা বলতেও দেওয়া হয় না। তিনি এখন কথাও বলেন না। জ্বালানি খাতে ৭ মাস ধরে সরকার কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। ফলে জ্বালানিমন্ত্রীরও দায়িত্বে থাকার কোনো অধিকার নেই।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বলতে গেলে মন্ত্রিপরিষদের একজনের পর একজনের নাম বলতে হবে। তবে আপাতত আমরা এই দুজনকে সরিয়ে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছি। এর আগে তথ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে একজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। যারা সবচেয়ে বেশি অবহেলা করছেন, তাদের সরানো হচ্ছে না বা জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না। আমরা তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চাই।’

কারওয়ান বাজার থেকে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরুর কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুরো ঢাকা শহরের কাঁচাবাজার ও সবজির অন্যতম কেন্দ্র এই এলাকা। এখানে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের অভিযোগ রয়েছে। কয়েক মাস আগে ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধভাবে চাঁদাবাজদের প্রতিহত করে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে যেসব জায়গায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও সিন্ডিকেটবাজির মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এসব সন্ত্রাসী ও দখলদার বাহিনীকে প্রতিহত করতে হবে।’

আগামী ৩০ অক্টোবরের গণবিক্ষোভ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি পালন করা হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, একদিকে মাদক কারবারিদের ঠেকানো যাচ্ছে না, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। সাংবাদিকদের ওপরও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের মেরে ফেলার কথা বলা হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। তার অভিযোগ, দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই; বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশ করতে গেলেও সাংবাদিকদের আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ১৫ অক্টোবর নেত্রকোনায় প্রকাশ্যে গুলি করে এক সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। পরদিন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আরেক সাংবাদিককে গুলি করা হয়। ১৯ অক্টোবর কক্সবাজারের বিভিন্ন সড়কে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনে ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সেই কক্সবাজার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রাড্ডায় হামলার ঘটনা এবং বিসিবি চত্বরে সালমান ইত্যাদি স্টুডিও ভাঙচুরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক।

নাহিদ ইসলামের দাবি, গত নয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ১১৩ জন নিহত হয়েছেন। গণপ্রতিনিধিদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ৮৭ জন এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৩৭ জন নারী। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের এমন পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম সমালোচনা বা তথ্য প্রকাশ করতে পারবে না—এটি চলতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে যে আইন ছিল, সেটি সংশোধন করে আরও দমনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইন আনার পাঁয়তারা করছে সরকার।

সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম এনসিপির পক্ষ থেকে ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো—

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ।
  • একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন।
  • সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ সব দমনমূলক কালো আইন বাতিল।
  • জুলাই গণহত্যা ও হামলাকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

আগামী ৩০ অক্টোবর দুপুর ৩টায় ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই গণবিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে দলমতনির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত
২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:০৪

আরো

সম্পর্কিত খবর