Friday 23 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গরু-ছাগল বাঁচাতে গিয়ে আগুনে পুড়ে বৃদ্ধের করুণ মৃত্যু

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:৩১

বিস্তীর্ণ চরে খোরশেদ আলীর খুপরিঘর পুড়ে ছাই।

গাইবান্ধা: জেলার সাঘাটায় যমুনার দুর্গম চরে মশার কয়েল থেকে লাগা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন খোরশেদ আলী (৬৫) নামে এক কৃষক। আগুনে নিজের গরু-ছাগল বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ হন তিনি। এ ঘটনায় ৩টি গরু ও ৬টি ছাগল পুড়ে মারা গেছে। এ ছাড়া আরও ৩টি গরু ও ৪টি ছাগল দগ্ধ হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের চর হলদিয়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত খোরশেদ আলী ওই চরের মৃত আব্দুল গফুর আলীর ছেলে।

জানা গেছে, কৃষিকাজের পাশাপাশি ছয়টি গরু ও ১০টি ছাগল পালন করতেন খোরশেদ আলী। গবাদিপশু লালনপালন করেই চলত তার সংসার। পশুর খাবার জোগাড় করতে প্রায়ই তাকে বাড়ির বাইরে যেতে হতো। সম্প্রতি তার গরুর জন্য রাখা খড় শেষ হয়ে যায়। অন্য বছরের তুলনায় এবার খড়ের দামও বেশি। তাই বছরের এই সময়ে গবাদিপশু নিয়ে যমুনার চরে গিয়ে থাকতেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

যমুনার বুকে জেগে ওঠা চর হলদিয়ায় একটি খুপরিঘর তৈরি করে সেখানেই গরু-ছাগল পালন করতেন খোরশেদ আলী। নদীর ওপারে পশ্চিম হলদিয়ায় থাকত তার পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় খুপরিঘরে গরু-ছাগল রেখে মশার কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন খোরশেদ আলী। রাতে কয়েলের আগুন থেকে ঘরে আগুন ধরে যায়। আগুনের উত্তাপে ঘুম ভেঙে গেলে চিৎকার শুরু করেন তিনি। এ সময় নিজের গরু-ছাগল উদ্ধারের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আগুনে দগ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

বিস্তীর্ণ চরে খোরশেদ আলীর খুপরিঘরটিই ছিল একমাত্র ঘর। আশপাশের প্রায় ৫০০ মিটারের মধ্যে আর কোনো বসতি ছিল না। ফলে আগুন লাগার পরপরই সেখানে সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভান। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় খোরশেদ আলীর মরদেহ।

স্থানীয়রা জানান, আগুনে পুড়ে খুপরিঘরটি ছাইয়ের স্তূপে পরিণত হয়। সেখানে পড়ে ছিল পুড়ে যাওয়া গরু ও ছাগলের দেহ। পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বৃদ্ধ কৃষকের ব্যবহৃত কিছু পোশাক।

নিহতের ছেলে শাহ আলম বলেন, ‘বাবা গরু-ছাগল নিয়ে নদীর ওপারে চরে থাকতেন। সারাদিন চরে গরু চরাতেন। আমরা এপারে থাকি। রাতে তার চাচা আব্দুর রাজ্জাক ফোন করে বাবার মৃত্যুর খবর জানান।’

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাসুদ রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গবাদিপশু নিয়ে খোরশেদ আলী একই ঘরে থাকতেন।’

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মশার কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি, খোঁজখবরও নিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর