Monday 26 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চলনবিলে দেশি মাছের সংকট, কমছে শুঁটকি উৎপাদন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪২

সিরাজগঞ্জ: একসময় চলনবিলের পাড়জুড়ে ছিল শুঁটকি তৈরির ধুম। বাঁশের মাচায় সারি সারি মাছ শুকানো, শ্রমিকদের ব্যস্ততা আর শুঁটকির ঘ্রাণে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু সেই চেনা দৃশ্য এখন অনেকটাই বদলে গেছে। দেশি মাছের অভাবে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও তাড়াশের শুঁটকিমহালগুলোতে কমেছে উৎপাদন। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিছু চাতাল, কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন বহু শ্রমজীবী মানুষ।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উল্লাপাড়া ও তাড়াশের ৬০টি শুঁটকিমহালে উৎপাদন হয়েছিল ৩০২ মেট্রিক টন শুঁটকি। পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১৮৫ দশমিক ১৭ মেট্রিক টনে। এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি উল্লাপাড়ার আড়ুয়া পাঙ্গাসী গ্রামের শুঁটকিচাতালগুলোতে দেখা যায়, নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা পুঁটি, খলশে, টেংরা, চেলা, টাকি ও চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ শুকানোর কাজ করছেন। তবে আগের তুলনায় কাঁচা মাছ কম থাকায় অনেক চাতালেই কাজের চাপ কম।

চাতাল মালিক ইসমাইল বলেন, গত বছর তাঁর মহালে প্রায় ৩৫ টন শুঁটকি তৈরি হয়েছিল। এবার মাছের সংকটে উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ টনে নামতে পারে। অন্য এলাকা থেকে মাছ কিনে আনতে হওয়ায় খরচ বাড়ছে, কমছে লাভ।

শুঁটকিচাতালের শ্রমিক জাহানারা বেগম জানান, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করে তিনি দৈনিক ২০০ টাকা মজুরি পান। এই আয় দিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে তাঁকে হিমশিম খেতে হয়। চাতাল বন্ধ হলে তাঁর মতো শ্রমিকদের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের মতে, জলাশয় ভরাট, প্রজননক্ষেত্র নষ্ট, অপরিকল্পিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ এবং মাছ ধরার ক্ষতিকর পদ্ধতির কারণে দেশি মাছ কমছে।

শুঁটকি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলনবিলের শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশেও যায়। কিন্তু উৎপাদন কমায় আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। তাঁদের দাবি, মাছের আবাসস্থল রক্ষা, স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক শুকানোর প্রযুক্তি ও সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে এ শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশি মাছ সংরক্ষণ, অবৈধ জাল বন্ধ এবং শুঁটকির মান উন্নয়নে কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে চলনবিলের মাছ ও শুঁটকির ঐতিহ্য রক্ষা পাবে, ফিরে আসবে চাতালগুলোর কর্মচাঞ্চল্য।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর