Saturday 31 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার, এইচএসসির ফলে বড় ধস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৮

ঢাকা: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার সর্বোচ্চ জিপিএ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র দেখা গেছে।

গত এক দশকের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭২ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা কমে ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৬৪ দশমিক ৬৭ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৯ সালে আবার বেড়ে হয় ৭২ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেন। ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে পাসের হার। ২০২২ সালে ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন। ২০২৫ সালে এ হার নেমে আসে ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশে। সর্বশেষ এবার তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে।

কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীও

পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৭২৬ এবং ২০১৮ সালে ২৯ হাজার ২৬২ জন। ২০১৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৮০৭ জনে।

২০২০ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাফে বেড়ে হয় ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন। ২০২১ সালে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জনে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পান ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন।

এরপর ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে ৯২ হাজার ৫৯৫ জনে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে আবার বেড়ে হয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। তবে ২০২৫ সালে তা কমে ৬৯ হাজার ৯৭ জনে নেমে আসে। এবার আরও কমে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৪০ হাজার ৮৪ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডেও কমেছে জিপিএ-৫

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। ২০১৬ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৪২৩ জন। ২০১৭ সালে ১ হাজার ৮১৫, ২০১৮ সালে ১ হাজার ২৫১ এবং ২০১৯ সালে ২ হাজার ২৪৩ জন জিপিএ-৫ পান।

২০২০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৪ হাজার ৪৮ জন। ২০২১ সালে তা দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৭২ জনে। ২০২২ সালে আরও বেড়ে ১৫ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পান। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে ৭ হাজার ৯৭ জনে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে বেড়ে হয় ৯ হাজার ৬১৩ জন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে মাদরাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ২৬৮ জন। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩৪৫ জন।

পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৫২ হাজার ১১ জন এবং ছাত্রী ৪০ হাজার ৮৯৪ জন। পরীক্ষায় প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

গত ২ জুলাই শুরু হয় চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

সব মিলিয়ে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকেই এবার বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। গত এক দশকের ফলাফলের তুলনায় চলতি বছরের ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার মান ও পরীক্ষা মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর