Saturday 31 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ, ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট মন্ত্রণালয়

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫২ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০৩

ঢাকা: চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ হাজার ৮৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের ক্ষতি কমাতে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি চিহ্নিত করে তা পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে তাদের শিক্ষাজীবনের আরও একটি বছর নষ্ট না হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ফলাফলে শিক্ষার্থীদের শিখন অর্জনের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো কাজ করবে। এ জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই ফলাফলে আমরা সন্তুষ্ট নই। তবে এটি একটি বাস্তব চিত্র। শিক্ষার্থীদের কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে আগামী দিনে সেসব সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে।’

খাতা পুনর্নিরীক্ষণে বদলেছে ফল

শিক্ষামন্ত্রী জানান, গত বছর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য প্রায় ১৩ লাখ আবেদন জমা পড়েছিল। পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন আসে। প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী অকৃতকার্য থেকে উত্তীর্ণ হন এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খাতা মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষকদের দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন যথাযথ মূল্যায়ন পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কাউকে যেন অন্যায়ভাবে অবমূল্যায়ন করা না হয়। সঠিক ও স্বচ্ছ ফলাফল প্রকাশ করাই সরকারের লক্ষ্য।’

ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে

গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইংরেজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, পরীক্ষকদের দক্ষতা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিকও পর্যালোচনা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান উন্নত করতে হবে। শুধু পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আলোচনা না করে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখনঘাটতি দূর করার দিকে নজর দিতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা

এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা নির্ধারণের শর্তে পরিবর্তন আনা হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় শিক্ষামন্ত্রীকে।

জবাবে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ভর্তি নীতিমালা নিজেরাই বিবেচনা করবে। তবে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষাগত ঘাটতি পূরণ এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠদানের মান এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল অর্জনের চেষ্টা করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর