সিরাজগঞ্জ: ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান আলিম পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জের পাঁচটি মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭২ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় মাদরাসাগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর)বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শ্যামপুর কাজী ইসমাইল হোসেন আলিম মাদ্রাসা, রায়গঞ্জ উপজেলার আমছারা ইসলামিয়া দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা ও তেলিজানা আলিম মাদ্রাসা, তাড়াশ উপজেলার দোবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা এবং উল্লাপাড়া উপজেলার চন্দ্রগাতী আলিম মাদ্রাসা।
বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শ্যামপুর কাজী ইসমাইল হোসেন আলিম মাদ্রাসা থেকে আট জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। রায়গঞ্জের আমছারা ইসলামিয়া দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার ২১ জন এবং তেলিজানা আলিম মাদ্রাসার ১৫ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেননি। তাড়াশের দোবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ১৪ জন এবং উল্লাপাড়ার চন্দ্রগাতী আলিম মাদ্রাসার ১৪ জন পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছে।
অর্থাৎ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের সংখ্যা শূন্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২১ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে রায়গঞ্জের আমছারা ইসলামিয়া দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায়।
এদিকে ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উল্লাপাড়া উপজেলার চন্দ্রগাতী আলিম মাদ্রাসাসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষকেরা নিয়মিত ক্লাস নেন না।’ পাঠদানে এমন অনিয়মের কারণেই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে পাঁচটি মাদরাসা প্রধানদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার বলেন, ‘শতভাগ অকৃতকার্য মাদরাসাগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’