রাজশাহী: ‘পৃথিবীকে গড়তে হলে সবার আগে নিজেকে গড়ো’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে শিশুকিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের (রংধনু শাখা) ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, শিশুকিশোর সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৬।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজশাহীর সি অ্যান্ড বি মোড় সংলগ্ন নানকিং দরবার হলে দিনব্যাপী এই প্রীতি উৎসব ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত, ফুলকুঁড়ির শিল্পীবৃন্দের উদ্বোধনী গান ‘ফুলকুঁড়ির গান’ পরিবেশন, সংগঠনের অতীত অর্জন তুলে ধরা, লক্ষ্য ও কার্যক্রমভিত্তিক বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শন, শিশুকিশোর পরিবেশকদের কবিতা আবৃত্তি, শিশুকিশোরদের পরিবেশনায় নাটক মঞ্চস্থ এবং বিশেষ শর্টফিল্ম প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী মেধাবী শিশুকিশোরদের হাতে ক্রেস্ট, মেডেল ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও ফুলকুঁড়ি আসর রংধনু শাখার উপদেষ্টা সভাপতি প্রফেসর মো. মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে এবং শাখা পরিচালক অগ্রহথিক ড. আবদুল্লাহ আল মুনতাসিরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীব, বিশেষ অতিথি হিসেবে সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. মাঈন উদ্দীন এবং প্রধান আলোচক হিসেবে জাকারিয়া হাবিব পাইলট বক্তব্য দেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের প্রশাসক প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, মতিহার হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সামিউল ইসলাম সরকার, রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. নুরুল ইসলাম এবং সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. আখতার হোসেন মজুমদার, বিজয়-২৪ হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. জামিরুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুলকুঁড়ি আসর শিশুকিশোরদের মেধা, মনন, নৈতিকতা ও সুনাগরিকত্বের বিকাশ সাধনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ৫২ বছরের এই গৌরবোজ্জ্বল পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে রংধনু শাখা দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা এবং ধারাবাহিক শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মননশীলতা বাড়াতে সাইন্স অলিম্পিয়াড, মেধাভিত্তিক লজিক প্রতিযোগিতা মাইন্ড ম্যারাথন (সিজন ৩), বিশেষ দক্ষতা ভিত্তিক ১০টিসি প্রতিযোগিতা, ব্লাড গ্রুপিং ও স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচি এবং চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মতো নানামুখী আয়োজন অন্তর্ভুক্ত ছিল।