Sunday 01 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সৌরবিদ্যুতে আগামী গ্রীষ্মে লোডশেডিং কমানোর আশা সরকারের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১ নভেম্বর ২০২৬ ১৪:১৩ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬ ১৪:২৩

ঢাকা: আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে লোডশেডিং কিছুটা কমানোর আশা করছে সরকার। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ, ছাদভিত্তিক সৌরপ্যানেল স্থাপন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগ।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জ্বালানির দাম ৩২ ডলারে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, গত আট মাস ধরে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছে সরকার। দেশের মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়েছে জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও অফ-গ্রিড হয়ে গেছেন। নিজের বাসায় তিনি আর জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন না।

দেশে নতুন কোনো কূপ খনন না হওয়ায় বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চলছে। বর্তমান সংকট উত্তরণে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদা-সরবরাহের ব্যবধান কমানোর লক্ষ্য

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য। আগামী গ্রীষ্মে যেন চলতি বছরের মতো বিদ্যুৎ সংকটে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ উদ্যোগ

সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত করতে সরকার ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে গ্রহণ করা হয়েছে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬–২০৩০’।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে নেট মিটারিং ব্যবস্থায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সায় কেনার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ ছাড়াই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সৌরপ্যানেল স্থাপনে পরিচালন ব্যয়ভিত্তিক (ওপেক্স) মডেল উৎসাহিত করছে সরকার।

সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারিসংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং এসব পণ্যের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সম্পূর্ণ মওকুফের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয় কমানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে।

এক্সপোতে প্রদর্শিত হবে আধুনিক প্রযুক্তি

‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এ সৌরপ্যানেল, ইনভার্টার, স্মার্ট গ্রিড ও উন্নত ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হবে।

এক্সপোতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, প্রকল্প অর্থায়ন, সহজ শর্তে ঋণ এবং কারিগরি সহায়তার বিষয়গুলোও তুলে ধরা হবে। এতে অংশ নেবেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

এ ছাড়া সৌরবিদ্যুতের কৌশলগত উন্নয়ন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপন, আবাসিক ও শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে চারটি বিশেষায়িত সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ও উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব হবে।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর