ঢাকা: বাংলাদেশে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ডেনমার্কের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকায় ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ কার্যালয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক মোলার (Christian Brix Møller)। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ডেনমার্কের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্বর্ণদ্বীপের সম্ভাবনাও বৈঠকে উঠে আসে।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পসম্পদে বিনিয়োগের আহ্বান
বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ও সম্ভাবনাময় জমি এবং শিল্পসম্পদে বিনিয়োগের জন্য ডেনিশ বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
বিশেষ করে যেসব স্থানে আগে চিনিকলসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা ছিল বা এখনো রয়েছে, সেসব স্থানে নতুন শিল্প স্থাপন এবং বিদ্যমান সম্পদের উৎপাদনশীল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে আগ্রহী ডেনিশ বিনিয়োগকারীরা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে সম্ভাবনা
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে দুই দেশের সহযোগিতার আরেকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয় বৈঠকে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) ও ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট-১-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. জুলিয়া মইন উত্তরাঞ্চলে এ শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি মৌসুমি কৃষিপণ্যভিত্তিক সম্ভাব্যতা যাচাই, কোল্ড স্টোরেজ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ফল থেকে পানীয় ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য উৎপাদনের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন।
এসব পণ্য দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন।