ঢাকা: তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন এবং রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ।
রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বিষয়ে সময় থাকলেও সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিধির নাম পেতে বিলম্ব হয়েছে। গতকাল রাতে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়ার পর রোববার সকালে মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।’
সালাহউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনা করে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবার-পরিজন নিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সহিংস আন্দোলনের কোনো প্রয়োজন ছিল না। আন্দোলনের নামে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, বিভিন্ন স্থানে হামলা, যানবাহন ভাঙচুর এবং কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ড সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে কেউ কেউ ইন্ধন জোগাচ্ছে, যাতে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা যায়, রফতানি বাণিজ্য ব্যাহত হয় এবং পোশাকশিল্পের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অপতৎপরতা সরকার কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করবে।’

রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম মন্ত্রণালয়কে শ্রমিকদের স্বার্থ নিশ্চিতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন তিনি।’
সালাহউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সরকার শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়ন এবং রফতানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান রয়েছে। সরকার চায় এ শিল্প আরও এগিয়ে যাক, রফতানি খাত সমৃদ্ধ হোক এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাক।’
কারখানা চালু রাখার আহ্বান
আন্দোলনের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পরদিন থেকে খুলবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের প্রতি উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কোনো কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে থাকলে তা যেন সাময়িক হয়। মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে হবে। রফতানির জন্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।’
মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক কবে হতে পারে?— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’
এর আগে, এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।