রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী ও জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধা চন্দন সূত্রধর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) রাতে ঢাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই আনন্দ সূত্রধর।
মৃত চন্দন সূত্রধর বেরোবির জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেরোবির আন্দোলনে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন এবং মৃত্যুর সময়ও তার মাথার খুলিতে বুলেটটি বিদ্যমান ছিল। কমে যাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে সম্প্রতি তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং টাইফয়েড সেরে উঠতে না উঠতেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। অবশেষে রক্তক্ষরণের কারণে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
চন্দন সূত্রধরেএ বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায়। বাবার নাম অনীল সূত্রধর ও মায়ের নাম সন্ধ্যা সূত্রধর।
মৃতের সহপাঠী শাহরিয়ার সোহাগ জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজের প্রাথমিক পরীক্ষার পর ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, যার জন্য প্রচুর অর্থ লাগবে। মাথার খুলিতে গুলিবিদ্ধ রাজকে নিয়ে তারা অসংখ্যবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, কিন্তু কেবল আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাননি। এমনকি ভিসি, তৎকালীন রেজিস্ট্রার ও ছাত্রপরামর্শকের কাছে গেলে আহত শিক্ষার্থীদের সাথে বাকবিতণ্ডাও হয়, তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও মন্ত্রণালয়ে গেজেটেড হওয়ার জন্য আবেদন করলেও বারবার তারিখ পেছানোর কারণে তিনি গেজেটেডভুক্ত হতে পারেননি।
সহপাঠী আজিজুর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গুতে আমার বন্ধুকে হারাতে হবে, এটা কখনো কল্পনাও করিনি। একজন প্রাণবন্ত মানুষ এভাবে অকালে চলে যাবে, বিষয়টি মেনে নেওয়া খুবই কঠিন।’
তিনি ডেঙ্গুকে এখন আর সাধারণ বিষয় নয়, বরং ভয়াবহ প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে অভিহিত করে ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানান।
জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান কুন্তলা চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘খবরটি শুনে আমি মর্মাহত। হঠাৎ করে তার চলে যাওয়া যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। ছেলেটি খুবই ভালো ছিল।’