Wednesday 04 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

লাল শাপলার মায়ায় মুগ্ধ লক্ষ্মীপুর

সাজ্জাদুর রহমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৫:৩৪

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’। ছবি: সারাবাংলা

লক্ষ্মীপুর: ভোরের সূর্য উঠতেই লাল শাপলার রঙিন চাদরে ঢেকে যায় চারপাশ। জলের বুকে ভেসে থাকা এই নয়নাভিরাম দৃশ্য যেন বাস্তবে রূপ দিয়েছে চলচ্চিত্রের সেই রূপসী বাংলার সুর- ‘তুমি সুতোয় বেঁধেছো শাপলার ফুল, নাকি তোমার মন…’। গানের সেই আবেগ আর প্রকৃতির এই রূপ যেন একসূত্রে মিশে গেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগানে’। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভোর হতেই ছুটে আসছেন দূর-দূরান্তের মানুষজন।

ভবানীগঞ্জ-কুশাখালী-নোয়াখালী সড়কের পূর্ব চর মনসা গ্রামের রাস্তার পাশেই এই বাগানটির অবস্থান। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে এটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত লাল শাপলাগুলো পূর্ণ পাপড়ি মেলে থাকে।

বিজ্ঞাপন

পাপড়ির সেই লাল রঙে জলের বুকে যেন সুর ভেসে ওঠে- ‘আমি জীবন বেঁধেছি, মরণ বেঁধেছি ভালোবেসে সারাক্ষণ’। স্নিগ্ধ ভোরের এই নয়নাভিরাম সৌন্দর্য আর গানের মায়াবী অনুভূতি একান্তে উপভোগ করতেই প্রতিদিন সকালে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে সবচেয়ে বেশি।

ছবি: সারাবাংলা

বাগানটির নেপথ্য গল্পটাও বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। ২০২০ সালে কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছাড়াই, শুধুই প্রকৃতির প্রতি নিখাদ ভালোবাসা থেকে নিজের ১৪৩ শতক জমিতে জলা কেটে এটি গড়ে তোলেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের সচিব ও প্রকৃতিপ্রেমী প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম। নাম দেন ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’। রূপসী বাংলার রূপ বাড়াতে বরিশালের উজিরপুর থেকে লাল শাপলার কন্দ এনে রোপণ করেছিলেন তিনি। এরপর নিবিড় পরিচর্যা ও ভালোবাসায় লালিত হয়ে জলাশয় জুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে হাজার হাজার রক্তলাল শাপলা।

প্রকৃতির এই মায়াবী রূপ দেখতে প্রতিদিনই সেখানে নামছে সৌন্দর্যপিয়াসী মানুষের ঢাল। বিশেষ করে ভোরের বাতাসে লাল শাপলার হাসিমাখা মুখ দেখতেই দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ে সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয়রা জানান, শুধু একা নয়, অনেকেই এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন এই ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’-এর স্নিগ্ধতা ছুঁয়ে দেখতে।

ছবি: সারাবাংলা

বাগানটির রূপ-সৌন্দর্যে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং দর্শনার্থীরা। লক্ষ্মীপুর শহর থেকে আসা শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেকের কাছে প্রশংসা শুনে আমরা এখানে ঘুরতে এসেছি। বাস্তবে এসে দেখি লাল শাপলার এই দৃশ্য কল্পনার চেয়েও সুন্দর, সত্যি দারুণ উপভোগ করেছি।’

নিজের এই স্বপ্নের বাগান নিয়ে শাপলা বাগানের উদ্যোক্তা প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নয়, নিছক নিজের শখ আর প্রকৃতির প্রতি টান থেকেই বাগানটি গড়ে তোলা। আমার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগে মানুষ একটু আনন্দ পাচ্ছেন, অনেকেরই ভালোবাসার জায়গায় পরিণত হয়েছে এতেই আমার আসল প্রাপ্তি ও তৃপ্তি। নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েই চেষ্টা করেছি, কারণ আমাদের এই অঞ্চলে বিনোদনের বা দেখার মতো এমন কোনো জায়গা ছিল না। মনের ইচ্ছে তো অনেক বড়, তবে সাধ্যের মধ্যে প্রকৃতিকে যতটা সাজানো যায় সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।’

সারাবাংলা/এসআর/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর