Friday 06 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইউজিসি’র নির্দেশনায় ইবি’র ২৬৮ কর্মচারী ছাঁটাই

ইবি করেসপন্ডেন্ট
৬ নভেম্বর ২০২৬ ১১:২০

ইবি: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৬৮ অস্থায়ী কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অস্থায়ী কর্মচারীদের মধ্যে কেউ থোক বরাদ্দে, কেউ দৈনিক মজুরিতে, আবার কেউ পোষ্য কোটায় অস্থায়ী নিয়োগ পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন কাজ করেও স্থায়ী হয়নি চাকরি। এছাড়া টানা তিন মাস বেতন বকেয়া থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ইউজিসির নির্দেশনার ভিত্তিতে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে তাদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন দফতর ও বিভাগের প্রয়োজনের ভিত্তিতে অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়। তাদের কেউ থোক বরাদ্দে, কেউ দৈনিক মজুরিতে, আবার কেউ পোষ্য কোটায় নিয়োগ পান। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল মিলিয়ে ২৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬২ জন বিভিন্ন সময়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী থোক বরাদ্দে নিয়োজিত। তাঁদের অধিকাংশই পোষ্য কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন। অন্যদিকে প্রায় ২০০ জন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন

এসব কর্মচারীর বেতন বাবদ প্রতি মাসে ব্যয় হয় প্রায় ২১ লাখ টাকা। ইউজিসির বিশেষ বরাদ্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিল থেকে এতদিন তাদের বেতন দেওয়া হতো। তবে অর্থসংকটের কারণে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়কে ঋণ নিয়ে তাদের বেতন দিতে হচ্ছে। সম্প্রতি ২৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারীর জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়া এবং তাদের আর বহাল না রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে ইউজিসি। সংস্থাটির চিঠির ভিত্তিতে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় তাদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও, অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেছেন কর্মচারীরা। তাদের মধ্যে ৫৬ জন চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশনও করেছেন। তাদের অভিযোগ, পোষ্য কোটায় নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগের বিধান থাকলেও কাউকে স্থায়ী করা হয়নি। কর্মচারীদের দাবি, ইউজিসির এমন নির্দেশনা আগেও ছিল। কিন্তু বিগত কোনো প্রশাসন তাদের বেতন বন্ধ করেনি।

কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ থেকে ২০ বছর কাজ করার পর হঠাৎ ছাঁটাই করা হচ্ছে। আমরা এখন কোথায় যাব, কী করব, কী পরিচয় দেব? পরিবার নিয়ে এখন আত্মহত্যা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। ইউজিসির ছাঁটাইসংক্রান্ত নির্দেশনার অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছরই ইউজিসি এ ধরনের চিঠি দিলেও বিগত প্রশাসনগুলো আমাদের বাদ দেয়নি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ইউজিসির চিঠির ভিত্তিতে সিন্ডিকেটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার কিংবা ইউজিসি থেকে এসব কর্মচারীর জন্য অর্থ না পাওয়ায় তাদের বেতন-ভাতা বহন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল সংকট থাকলে প্রয়োজনীয় পদের চাহিদাপত্র ইউজিসিতে পাঠালে কমিশন যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদন দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় এখন সেই প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। আর সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিগত তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর