Saturday 07 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় ঐক্যের তাৎপর্য

মোহাম্মদ আব্দুল হালিম
৭ নভেম্বর ২০২৬ ১৪:৫৯

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ, ঘটনাবহুল ও বহুমাত্রিক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এদিন সেনানিবাসে বন্দি তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্ত হন এবং সৈনিকদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের একটি অংশ রাজপথে নেমে আসে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারায় দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

বিজ্ঞাপন

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কেবল একজন সেনা কর্মকর্তার মুক্তি কিংবা একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন, সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংকট, জনগণের অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তি ও পরবর্তী রাজনৈতিক উত্থান এ ঘটনাকে বিশেষ মাত্রা দেয়। তবে ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য ঘটনাটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা, বিশেষ করে সামরিক নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

একটি জাতির ইতিহাসে কিছু দিন থাকে, যেগুলো শুধু অতীতের কোনো ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় না; বরং জাতির রাজনৈতিক চেতনা, আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ পথচলার প্রশ্নেও নতুন করে ভাবতে শেখায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর তেমনই একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করে।

স্বাধীন দেশে স্বাধীনতার পর এমন দুঃশাসন কায়েম হয়েছিল যার ফলে দুর্ভিক্ষ, চুরি, ডাকাতি, হত্যাকাণ্ড, নারী নির্যাতন, শিক্ষাঙ্গনে অরাজকতা, কালোবাজারী, মুনাফাখোরি, মজুদদারী, চোরাকারবারী এবং সবশেষে বাকশাল কায়েম করে মানুষের মৌলিক অধিকারকে হরণ করে নেয়। সময়ের স্রোতে ঐ সময়ের সরকারের চরম ব্যর্থতার সমাধির ওপর ৭ নভেম্বর দাঁড়িয়ে যায় জনগণের আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের সোপান। সিপাহী-জনতা কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের ও নিজেদের প্রয়োজনে জিয়াউর রহমানকে কারাগারের অন্ধকার জিঞ্জির ভেঙে বের করে নিয়ে আসে আলোয়।

৭ নভেম্বর কারাগারের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান হয়ে উঠেন দেশের মুকুটহীন সম্রাট; যা তাকে পরবর্তীতে রাজনৈতিক ময়দানের স্বার্থকতায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক মহান নেতায় পরিণত করে। অসীম সাহস, প্রগাঢ় দেশপ্রেম, দূরদৃষ্টি, ন্যায়বান ও সত্যনিষ্ঠায় জিয়াউর রহমান হয়ে উঠেন সময়ের বরপুত্র। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সময়ের বরপুত্র হয়েছিলেন সত্য কিন্তু তিনি সময়কে কর্মের অধীন করে কালপ্রবাহকে ধাবিত করেছেন অনাধিকালের স্বার্থকতার এক যৌক্তিক মোহনায়।

স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে মানুষের কাঙিক্ষত মুক্তির প্রয়োজনে জিয়াউর রহমান এমন একজন আলোচিত ব্যক্তি, এমন এক অবশ্যম্ভাবী চরিত্র হয়ে উঠেন যা অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার মধ্যে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তিনি তার দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও দৃঢ়তা দিয়ে দেশকে নিশ্চিত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে তুলে আনেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনা সহজ ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, প্রশাসনিক পুনর্গঠন, খাদ্যসংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমাবদ্ধতা সদ্য স্বাধীন দেশকে নানা সংকটের মুখে ফেলে। ১৯৭৫ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রক্ষমতা, সামরিক নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রশ্নে একের পর এক পরিবর্তন দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে ব্যাহত করে। এই প্রেক্ষাপটে ৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থান এবং সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের বন্দিত্ব পরিস্থিতিকে নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যায়। ৬ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৭ নভেম্বর ভোর পর্যন্ত সেনানিবাসে সংঘটিত সৈনিক বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের একটি অংশও রাজপথে নেমে সৈনিকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মূল তাৎপর্য অনুধাবন করতে হলে তাই ১৯৭৫ সালের ঘটনাপ্রবাহকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি, স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সংকট, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা- সবকিছুর সম্মিলিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব:

৭ নভেম্বরের ইতিহাসের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তার রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ২৫ মার্চ ১৯৭১ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণহত্যামূলক অভিযান শুরু হলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাঙালি সদস্যদের একটি অংশ বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে এই ঘোষণার প্রচার প্রতিরোধযুদ্ধের মনোবল ও স্বাধীনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে তিনি জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।

মুক্তিযুদ্ধে তার সামরিক নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও সাংগঠনিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি সামরিক নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উঠে আসেন। এই ঐতিহাসিক পটভূমি ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১৯৭৫ সালে তার বন্দিত্ব এবং পরবর্তী মুক্তির ঘটনায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের প্রতিক্রিয়ার পেছনে তার মুক্তিযুদ্ধকালীন পরিচিতি, সামরিক নেতৃত্ব এবং জনপ্রিয়তার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট:

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা। কিন্তু রাজনৈতিক মতপার্থক্য, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি ও প্রশাসনিক সংকট রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতিকে ক্রমেই জটিল করে তোলে। ১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এর ফলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর আরও সংকুচিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। ১৫ আগস্টের পর সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরেও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এই অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তার সেনানিবাসের বাসভবনে বন্দি করা হয়। ফলে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়।

৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর: ঘটনাপ্রবাহ

১৯৭৫ সালের ৩ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কয়েক দিনের ঘটনাবলি পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে।

৩ নভেম্বর ১৯৭৫: ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে এবং রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

৪–৫ নভেম্বর: সেনানিবাসে উত্তেজনা ও অস্থিরতা অব্যাহত থাকে। সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়তে থাকে। তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে তৎপরতা চলতে থাকে।

৬ নভেম্বরের মধ্যরাত: জাসদ-সংশ্লিষ্ট বিপ্লবী সৈনিকদের উদ্যোগে অভ্যুত্থান শুরু হয়। কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের নাম এই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে। সৈনিকদের বিদ্রোহের ফলে ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।

৭ নভেম্বর ১৯৭৫: সৈনিকরা সেনানিবাসে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। তার মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের একটি অংশ রাজপথে নেমে আসে। সৈনিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উপস্থিতির মধ্য দিয়ে দিনটি সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান হিসেবে পরিচিতি পায়। এই ঘটনাপ্রবাহে জিয়াউর রহমানের মুক্তি ছিল একটি কেন্দ্রীয় ঘটনা। তবে ৭ নভেম্বরের রাজনৈতিক তাৎপর্য নির্ধারণে শুধু তার মুক্তিকে বিবেচনা করলেই চলবে না; এর পেছনে সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, জাসদের বিপ্লবী পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও বিশ্লেষণ করতে হবে।

সিপাহী-জনতার অংশগ্রহণ ও জাতীয় সংহতির প্রতীক:

৭ নভেম্বরের ঘটনাকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে স্মরণ করার অন্যতম ভিত্তি হলো সৈনিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ। তৎকালীন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সৈনিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান এবং জিয়াউর রহমানের বন্দিত্ব সেই অসন্তোষকে আরও তীব্র করে। ৬ নভেম্বর মধ্যরাতের পর সৈনিকদের বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তৎকালীন দৈনিক বাংলার ৭ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চার দিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে এবং বিপ্লবী সৈনিকেরা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করেছেন। প্রতিবেদনে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়।

জিয়াউর রহমান মুক্ত হওয়ার পর রেডিওতে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মানুষের উপস্থিতি, সৈনিকদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের আলিঙ্গন ও সংহতি প্রকাশের বিবরণ সমকালীন সংবাদ ও পরবর্তী স্মৃতিচারণে পাওয়া যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপাহী-জনতার ঐক্যকে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে প্রকাশ পায়। সেদিন রাজপথে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের পাশাপাশি দেশের প্রায় সব শ্রেণি, পেশা ও রাজনৈতিক মতের মানুষ একই উদ্দেশ্যে মনে-প্রাণে ধারণ করেছিলেন।

৭ নভেম্বরের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের সম্পর্ক:

৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক তৈরি করে। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার পর তিনি সামরিক নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় অবস্থানে ফিরে আসেন। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

৭ নভেম্বরের পর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমান উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব লাভ করেন।

পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বে প্রশাসনিক পুনর্গঠন, সামরিক বাহিনীতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিকাশ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিসর এবং নির্বাচনী রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো তার শাসনামলের রাজনৈতিক মূল্যায়নে বিশেষভাবে আলোচিত।

১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক দর্শন সাংগঠনিক রূপ লাভ করে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আত্মনির্ভরতা এবং ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে নাগরিক অংশগ্রহণ এই রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উপস্থাপিত হয়। এখানে একটি ঐতিহাসিক পার্থক্য উল্লেখ করা প্রয়োজন: ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান, পরবর্তী সামরিক প্রশাসন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি হওয়া একই দিনের ঘটনা নয়; এগুলো কয়েক বছরের ধারাবাহিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের অংশ।

জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার প্রশ্ন:

৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চিন্তায় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছিল গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।

৭ নভেম্বরকে বৈদেশিক প্রভাব ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব পায়। এর মূল বক্তব্য হলো, কোনো রাষ্ট্রের স্বাধীনতা শুধু ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমমর্যাদা বজায় রাখাও সার্বভৌমত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বৈদেশিক সম্পর্কের প্রশ্নে আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতা ও জাতীয় স্বার্থের ভারসাম্য জরুরি। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা পরস্পরের বিরোধী বিষয় নয়। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন এবং সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গণতান্ত্রিক শিক্ষা:

৭ নভেম্বরের ইতিহাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। প্রথমত, রাষ্ট্রীয় সংকটের সময়ে জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিরাপত্তার মৌলিক ভিত্তি। সামরিক বাহিনীকে রাষ্ট্রের সংবিধান, আইন ও নির্ধারিত সাংবিধানিক কর্তৃত্বের অধীনে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। তৃতীয়ত, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের মতামত, নির্বাচনী ব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চতুর্থত, জাতীয় ঐক্য মানে রাজনৈতিক মতের একরূপতা নয়। বরং ভিন্নমতকে সম্মান করে একটি অভিন্ন জাতীয় লক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করাই প্রকৃত সংহতি। পঞ্চমত, ইতিহাসের মূল্যায়নে তথ্য, দলিল ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক নেতা বা দলের অবদান মূল্যায়ন করতে গিয়ে ঐতিহাসিক জটিলতা, বিতর্ক এবং ভিন্নমতকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা:

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে অগ্রসর হন। অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়ের মাধ্যমে তিনি দেশকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করতে চেয়েছিলেন। সেই ভাবনা থেকেই জিয়াউর রহমান ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, প্রশাসন ও রাজনীতিতে মৌলিক সংস্কার শুরু করেন। বলতে গেলে, জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই প্রথম বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে ধাবিত হয়। রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এর মাধ্যমে তিনি জাতীয় ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি প্রশাসনিক কাঠামোতে দক্ষতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দেন। বেসামরিক প্রশাসন ও জনপ্রশাসনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৮ সালে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনর্বহাল করেন, যা রাজনৈতিক বহুমাত্রিকতা ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির ভিত্তি তৈরি করে। এ ছাড়া তিনি কৃষি ও শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণে পদক্ষেপ নেন। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীলতা লাভ করে, যা বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

রাষ্ট্রগঠনে জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতার অন্যতম পরিচায়ক হলো, তার ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি। এটি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশকে তথাকথিত ‘তলাবিহীন’ ঝুড়ি থেকে অন্যতম স্বনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল এই ১৯ দফার। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পররাষ্ট্রনীতি পুনর্গঠনের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দফাগুলো ছিল কৃষিবিপ্লবের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের স্বনির্ভরতা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, যেন তা দেশের অগ্রগতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে পারে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নারী ও যুব সমাজকে জাতীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা, স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে দেশকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি। জিয়াউর রহমান তার উনিশ দফার মধ্যে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন দর্শনের যে রূপরেখা প্রদান করেন, তা পরবর্তী সময় দেশের বিভিন্ন সরকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে বিশ্ব আজ নানা সংকটের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, বৈষম্য, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটসহ আরও বহু চ্যালেঞ্জ গোটা বিশ্বকে জর্জরিত করে রেখেছে। এসব সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেই জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়, ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময়কে লক্ষ্য রেখে গৃহীত হয় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)। এই এসডিজির আওতায় মানবকল্যাণ ও পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৭টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ করলে দেখা যাবে, জাতিসংঘের এই টেকসই উন্নয়ন চিন্তাধারার বহু আগেই অর্থাৎ ৩৮ বছর আগেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার জন্য ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। তার এই ঘোষণায় ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠন, কৃষি ও শিল্পোন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। নিঃসন্দেহে জিয়াউর রহমানের এই ১৯ দফাই ছিল বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের প্রাথমিক রূপরেখা।

এমন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনার ফলেই জিয়াউর রহমান পরিণত হন একজন সফল রাষ্ট্রনায়কে। বিশেষ করে, ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পর দেশের যে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণের পথে এই ১৯ দফা ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যুগের পর যুগ ধরে তার রাষ্ট্রদর্শন ও উন্নয়নচিন্তা এখনও বাংলাদেশের মানুষের কাছে অনুকরণীয় ও প্রাসঙ্গিক হয়ে আছে। তার উন্নয়ন এই দেশের রাজনৈতিক ধারায় ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে স্মরণীয়। এই দিবসের অন্যতম প্রধান তাৎপর্য হলো জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আত্মমর্যাদা এবং জনগণের সম্মিলিত শক্তির গুরুত্ব স্মরণ করা। একই সঙ্গে ইতিহাসের সমালোচনামূলক মূল্যায়ন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সাংবিধানিক শাসনের প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ৭ নভেম্বরের প্রকৃত শিক্ষা হওয়া উচিত—জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবদান ও ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমাদের এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করতে হবে, যেখানে থাকবে জনগণের অধিকার, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সুদৃঢ় ভিত্তি। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রত্যয় হোক—বিভেদ নয় ঐক্য, প্রতিহিংসা নয় সহনশীলতা, কর্তৃত্ব নয় জনগণের অধিকার এবং দলীয় স্বার্থ নয় জাতীয় স্বার্থ।

লেখক: পুলিশ কর্মকর্তা, সিআইডি

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর