Saturday 07 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৭ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:১৩ | আপডেট: ৭ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:১৪

জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে দু’জন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোন বিল, থানায় যাতায়াত ভাতা এবং অবসরকালীন আনুতোষিকও বাড়ানো হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে এসব ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন সাড়ে ৭ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর গ্রাম পুলিশ প্রধানদের বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ ৭ নভেম্বর থেকেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বিজ্ঞাপন

অবসরকালীন আনুতোষিকও বাড়ানো হয়েছে। গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আনুতোষিক ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তথ্য আদান-প্রদানের জন্য প্রত্যেক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মোবাইল ফোনের খরচ বাবদ মাসে ২০০ টাকা দেওয়া হবে। থানায় সাপ্তাহিক হাজিরার জন্য যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে দুজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। নারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হবে।

গ্রাম পুলিশের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়কের নাম ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ রাখার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। এসব সড়কে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় গাছ লাগানো হবে। গাছ বিক্রির অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তৃণমূল পর্যায়ে কোথায় কী ঘটছে, কারা অপরাধে জড়াচ্ছে কিংবা কোথায় পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সে বিষয়ে গ্রাম পুলিশ আগেভাগেই তথ্য পেতে পারেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘একটি নিরাপদ ইউনিয়ন বা গ্রামের জন্য কার্যকর স্থানীয় প্রশাসন, দায়িত্বশীল গ্রাম পুলিশ এবং সচেতন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। এ তিনটির সমন্বয় যত শক্তিশালী হবে, গ্রাম ও ইউনিয়নগুলো তত বেশি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম দিয়ে সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনাও জরুরি।’

তিনি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধে মানুষকে সচেতন করা এবং বৃক্ষরোপণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর