Sunday 08 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসব আজ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৮ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৩৩

ঢাকা: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা ও দীপাবলি আজ রোববার (৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে প্রতিবছর অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য, ধর্মীয় আনন্দ-উদ্দীপনা ও আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে এই পূজা উদযাপিত হয়। শুভ ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটানোই এই উৎসবের মূল তাৎপর্য।

পঞ্জিকামতে, রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১টা ২ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হয়ে তা বলবৎ থাকবে সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, কালীপূজা মূলত শক্তির আরাধনা। দেবী দুর্গারই এক বিশেষ রূপ দেবী কালী, যিনি ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুণ্ডি, ভদ্রকালী ও মহামায়া সহ নানা নামে পূজিত হন। সাধারণত মধ্যরাতে মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পাঞ্জলি ও বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মণ্ডপে মণ্ডপে মায়ের পূজা সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন

শ্যামাপূজার সাথে দীপাবলি উৎসবের রয়েছে এক নিবিড় ও স্বর্গীয় সম্পর্ক। অশুভ আঁধার দূর করে আলোর দিশা ছড়াতে এদিন সন্ধ্যায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ গৃহ, আঙিনা ও মন্দির প্রাঙ্গণে শত শত প্রদীপ প্রজ্বালন করেন। একই সাথে শ্মশানে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রয়াত বাবা-মা, স্বজন ও পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। বাঙালি হিন্দুদের কাছে এটি দীপাবলি নামে পরিচিত হলেও অবাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে উৎসবটি মূলত ‘দিওয়ালি’ নামে সমাদৃত।

উৎসব উপলক্ষ্যে দেশের সকল প্রধান মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের সমাগম ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অন্যান্য বড় পূজার মতোই এখানে মৃন্ময়ী (মাটির) প্রতিমা ছাড়াও ধাতব বা পাথরের প্রতিমায় আরাধনা করা হয়। সনাতন ঐতিহ্য অনুযায়ী দেবী কালীকে শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে গণ্য করায় পোস্তগোলাসহ দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মহাশ্মশানে বিশেষ আয়োজনে ‘শ্মশান কালীপূজা’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকায় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্ণিল আলোকসজ্জা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, রায়েরবাজার মন্দির, সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির এবং পুরান ঢাকার পোস্তগোলা মহাশ্মশানে বিশেষ পূজা ও প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার ও বাংলাবাজারের আঁকাবাঁকা গলিগুলোতে প্রতিমার সৌন্দর্য আর দীপাবলির আলোকচ্ছটায় উৎসব মুখরিত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে