Sunday 08 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

টিউলিপকে বরখাস্তে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর অনীহা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:২১
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যুক্তরাজ্যের ডাউনিং স্ট্রিট বর্তমানে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টার (ইকোনমিক সেক্রেটারি) টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে বেশ কিছু অভিযোগে বিদ্ধ।

টিউলিপ সিদ্দিককে সেন্ট্রাল লন্ডনে ৭ লাখ পাউন্ড দামে একটি ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছেন আবদুল মোতালিফ নামে এক আবাসন ব্যবসায়ী। যার সঙ্গে টিউলিপের খালা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগসূত্র আছে। এমন একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের চাপে পড়েছেন টিউলিপ সিদ্দিক। এই পরিস্থিতিতে তিনি স্বেচ্ছায় ডাউনিং স্ট্রিটের নৈতিক পরামর্শদাতা স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে নিজের তদন্তের দাবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যে সদ্য ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্ত্বেও তার প্রতি কঠোর সমর্থন জানিয়েছেন। স্টারমারের এই অনমনীয় মনোভাব তার নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) লন্ডনভিত্তিক সংবামাধ্যম দ্য ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

টিউলিপকে বরখাস্তে স্টারমারের এই অনীহার কারণ হতে পারে তাদের পুরনো বন্ধুত্বের জের। টিউলিপ সিদ্দিক এবং স্টারমারের বন্ধুত্বের শুরু ২০১৪ সালে। সিদ্দিক তখন লেবার পার্টির প্রার্থী হিসাবে কাজ করছিলেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তারা একসঙ্গে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন।

স্টারমারের লেবার নেতৃত্বের লড়াইয়ে সিদ্দিক তার অন্যতম প্রথম সমর্থক ছিলেন। স্টারমার ২০২৪ সালে নির্বাচনে তার দলের বিজয়ে টিউলিপকে বন্ধু বলে প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের টিউলিপের প্রতি এই আচরণ তার দলের অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রে ভিন্ন রকম মনে হয়েছে। উল্লেখ্য, লুইস হেইগ নামক এক উচ্চপদস্থ মন্ত্রী অতীতে তার একটি মামলার কারণে দ্রুত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। কিন্তু টিউলিপ সিদ্দিক, যিনি তুলনামূলকভাবে নিম্ন পদে রয়েছেন, তার বরখাস্তকে ঘিরে তেমন কোনো পদক্ষেপ এখনও নেয়া হয়নি।

এ অবস্থায় স্টারমারের বন্ধু হিসাবে টিউলিপ সিদ্দিককে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তদন্ত চলাকালীন টিউলিপ সিদ্দিককে প্রকাশ্য দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। সেই সাথে তাকে চীনে অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভসের সফরে সঙ্গীর দায়িত্ব হতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

টিউলিপ সিদ্দিক এবং স্টারমারের বন্ধুত্ব বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তাদের এক দশকের বন্ধুত্ব এখন সরকারের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

সারাবাংলা/এনজে