Saturday 26 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

৮ মার্চ ১৯৭১ / সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ মার্চ ২০২৫ ০৮:০০
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: একাত্তরের অগ্নিঝরা ৮ মার্চ ছিল আগের সাতটি দিনের চেয়ে আলাদা। মুক্তির বন্দরে পৌঁছাতে কী করতে হবে, ততদিনে জেনে গিয়েছিল বাঙালি। আর কীভাবে তা করতে হবে, সেই নির্দেশনা তারা পেয়ে যায় ৭ মার্চ শেখ মুজিবর রহমানের ভাষণ থেকে। সেই ভাষণে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীকে দিয়েছিলেন চার শর্ত, আর বাংলার মুক্তিকামী মানুষকে দিয়েছিলেন ১০ নির্দেশনা। তার ভিত্তিতেই ৮ মার্চ থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়।

হাইকোর্টের বিচারক থেকে সাধারণ নাগরিক সবাই তাতে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেয়। পূর্ব-পাকিস্তান কার্যত চলতে থাকে শেখ মুজিবের নেতৃত্ব ও নির্দেশে। আগের দিনের তার ভাষণ ৮ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা বেতার থেকে সম্প্রচার করা হয়। প্রদেশের অন্যান্য বেতার কেন্দ্র থেকেও তা রিলে করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ এবং ডাকসুর সহ-সভাপতি আ স ম আব্দুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস মাখন সেদিন একটি যৌথ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তারা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য বাংলার সংগ্রামী জনতার প্রতি আহ্বান জানান।

একই দিন রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে ৭ মার্চের ভাষণের ব্যাখা দেন। ব্যাখায় হয়, ব্যাংকগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বাংলাদেশের ভেতরে নগদ জমা, বেতন ও মজুরি প্রদান, এক হাজার টাকা পর্যন্ত প্রদান এবং আন্তঃব্যাংক ক্লিয়ারেন্স ও নগদ লেনদেন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় বিভাগগুলো খোলা থাকবে। সার সরবরাহ ও পাওয়ার পাম্পের ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। পোস্ট অফিস, সেভিংস ব্যাংক খোলা থাকবে। পানি ও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

সরকারি এক প্রেসনোটে সেদিন দাবি করা হয়, আন্দোলনে ১৭২ জন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন ৩৫৮ জন। তাজউদ্দীন আহমদ আরেকটি বিবৃতিতে সামরিক কর্তৃপক্ষের ওই প্রেসনোটের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘সেখানে হতাহতের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে বলা হয়েছে।’

ব্রিটেন প্রবাসী প্রায় ১০ হাজার বাঙালি এদিন লন্ডনে পাকিস্তান হাই-কমিশনের সামনে স্বাধীন বাংলার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের ব্যাপারে শেখ মুজিব তার ভাষণে যে শর্ত দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পিপলস পার্টির চেয়াম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টোকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। কিন্তু ভুট্টো কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তৎকালীন ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ’ তাদের নামের আগে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ অংশটি বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় এদিন। সিনেমা হলগুলোতে পাকিস্তানের পতাকা প্রদর্শন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন বন্ধ রাখেন হল মালিকরা। পরিস্থিতি বিস্ফোরন্মুখ হয়ে ওঠায় যুক্তরাজ্য ও তখনকার পশ্চিম জার্মানির ১৭৮ জন নাগরিক এদিন ঢাকা ছেড়ে চলে যান।

সারাবাংলা/এফএন/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

পুলিশে আসছে আরও একটি নতুন ইউনিট
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:২৭

আরো