ঢাকা: রাজধানী ঢাকার জীবনযাত্রা ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও যানজট—সব মিলিয়ে শহরটিতে শ্বাস নেওয়া মানেই নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হওয়া।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) আইকিউএয়ারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কাতারের দোহা। সেখানে বাতাসের মান সূচক (AQI) ২৫৯, যা ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। দ্বিতীয় অবস্থানে কঙ্গোর কিনশাসা (AQI ১৬৯) এবং তৃতীয় অবস্থানে উগান্ডার কাম্পালা (AQI ১৬০)।
ঢাকা আজ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৫তম। ঢাকার AQI ৬৭, যা ‘Moderate’ বা মাঝারি পর্যায়ে ধরা হচ্ছে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম হলেও শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টে ভুগা ব্যক্তিদের জন্য এটি এখনও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
গতকাল (২৮ আগস্ট) ঢাকার AQI ছিল ৮৬, অর্থাৎ ‘Moderate থেকে Sensitive groups-এর জন্য Unhealthy’। একদিনের ব্যবধানে সূচক নেমে এসেছে ‘Moderate’ স্তরে। তবে এটি সাময়িক উন্নতি, কারণ আবহাওয়া, বৃষ্টি ও যানজটের কারণে সূচক দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলো:
-
যানবাহনের ধোঁয়া: পুরনো গাড়ির কালো ধোঁয়া বাতাসে বিষ মেশায়।
-
নির্মাণকাজ: ভবনের ধুলো সরাসরি শ্বাসতন্ত্রে প্রভাব ফেলে।
-
শিল্পকারখানা ও ইটভাটা: নিয়ন্ত্রণহীন কারখানা ও ইটভাটা দূষণের বড় কারণ।
-
জলবায়ু ও মৌসুমি প্রভাব: বাতাসের গতিপ্রকৃতি ও বৃষ্টিপাতে দূষণ বেড়ে বা কমতে পারে।
বায়ুদূষণকে ‘অদৃশ্য শত্রু’ বলা হয়। চোখ জ্বালা, কাশি, শ্বাসকষ্ট—এসব এর সরাসরি প্রভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের ক্যানসার ও হৃদরোগসহ নানা জটিলতা বাড়ে।
ঢাকার বাতাস সামান্য উন্নতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে সরকার, নগর কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় উন্নয়নের নগরী ঢাকা নিঃশব্দে মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া দূষণের ফাঁদে পরিণত হতে পারে।