একসময় ক্যাসেট প্লেয়ারের পাশে বসে নিরিবিলি বিকেল কাটত। জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া আলো, বাইরে হালকা বৃষ্টি— আর ভেতরে বাজত ফাহমিদা নবীর গান। নব্বইয়ের দশকের সেই সময়টা কেবল সময় নয়, ছিল এক ধরনের অনুভূতি। অনেক বছর পর যেন আবার সেই অনুভূতির দরজায় কড়া নাড়লেন এই প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী।
সমসাময়িক সংগীতাঙ্গনে যখন নতুন গান প্রকাশই হয়ে উঠেছে বিরল ঘটনা, ঠিক তখনই একসঙ্গে তিনটি নতুন গান নিয়ে হাজির হয়েছেন ফাহমিদা নবী। গানগুলো— ‘দুঃখের দলিল’, ‘আসলোনা বৃষ্টি’ ও ‘ইচ্ছে করে’— শুধু নতুন গান নয়, বরং শ্রোতাদের নিয়ে যায় এক নস্টালজিক ভ্রমণে।
এই তিন গানের কথায় কলম ধরেছেন গীতিকার গোলাম মোর্শেদ। সুর করেছেন সংগীতশিল্পী শামস সুমন। প্রতিটি গানে রয়েছে বেদনার ছোঁয়া, তবে তা ভারী নয়— বরং সংযত, পরিমিত ও সময়ের সঙ্গে মানানসই এক আধুনিক আবেশ।
ফাহমিদা নবী নিজেই বলছেন, ‘এই তিনটি গানে নব্বইয়ের দশকের ছাপ আছে, যেটা আমাকে খুব আকৃষ্ট করেছে। কথাগুলো কষ্টের হলেও সংগীতে রাখা হয়েছে মডার্ন ভাইব।’ এই বক্তব্যেই ধরা পড়ে গানগুলোর মূল শক্তি— পুরোনো আবেগকে নতুন রূপে তুলে ধরা। যেন চেনা কষ্ট, কিন্তু নতুন ভাষায় বলা।
এতেই থেমে থাকেননি তিনি। সম্প্রতি ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে ফাহমিদা নবীর কণ্ঠে আরও একটি নতুন গান— ‘বৃষ্টি তুমি ঝরছিলে সেদিন’। গানটির কথা লিখেছেন সোহেল আলম। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন শেখ মোহাম্মদ রাজোয়ান। এই গানটিতেও রয়েছে সেই চেনা ফাহমিদা নবী—নরম কণ্ঠ, সংযত আবেগ আর গভীর অনুভব।
গানটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কণ্ঠে শ্রোতারা যে ধরনের গান পছন্দ করেন, এটি তেমনই। এই গান শুনলে ভিন্ন এক অনুভূতি পাওয়া যাবে।’ আসলে ফাহমিদা নবীর গান কখনো উচ্চস্বরে চিৎকার করে না, ধীরে ধীরে হৃদয়ের ভেতর ঢুকে পড়ে। নব্বইয়ের দশকে যেভাবে তিনি শ্রোতার সঙ্গী ছিলেন, আজও ঠিক তেমনই—সময় বদলেছে, কিন্তু কণ্ঠের বিশ্বাসযোগ্যতা বদলায়নি।
এই নতুন গানগুলো প্রমাণ করে, ভালো গান কখনো পুরোনো হয় না। আর ফাহমিদা নবী এখনো জানেন, কীভাবে স্মৃতি আর সময়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শ্রোতার মনে আলতো করে হাত রাখা যায়।
নব্বইয়ের সেই বিকেলগুলো হয়তো আর ফিরে আসবে না, তবে এই তিনটি গান শুনলে মনে হবে— কিছু অনুভূতি আসলে কখনো হারায় না।