নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন পরিকল্পনা। কিন্তু ২০২৬ সালের শুরুতেই পাকিস্তানের বিনোদন অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির— তাও কোনো নতুন নাটক বা সিনেমার জন্য নয়, বরং এক অদ্ভুত জ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে।
ললিউডে যখন গুঞ্জন— হানিয়া আমির ও গায়ক-অভিনেতা আসিম আজহার হয়তো আবার কাছাকাছি আসছেন, তখনই একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে জ্যোতিষীরা ঘোষণা দেন, ‘২০২৬ সালেই হানিয়া আমিরের ডিভোর্স হবে।’ বিষয়টি শুনে অবাক শুধু ভক্তরাই নন, খোদ হানিয়াও!
‘আগে তো আমাকে বিয়ে করতে দিন’
সব বিতর্কের মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় জবাব দেন হানিয়া। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লেখেন— ‘আজব! আগে তো আমাকে বিয়ে করতে দিন।’ এই একটি বাক্যেই যেন পুরো ভবিষ্যদ্বাণীর ফাঁপা নাটকীয়তাকে হালকা করে দিলেন তিনি। ভক্তরা মুহূর্তেই সেই স্টোরিকে বানিয়ে ফেলেন ভাইরাল— কেউ হাসিতে ভাসলেন, কেউ আবার প্রশ্ন তুললেন, আদৌ কি তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন এভাবে ভবিষ্যদ্বাণীর টেবিলে তোলা উচিত?
হানিয়া আমির ও আসিম আজহারের সম্পর্ক একসময় ছিল ওপেন সিক্রেট। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রেম ২০২০ সালে ভেঙে যায়। এরপর আসিমের বাগদান, সেটির ভাঙন, আবার হানিয়া-আসিমের একই ইভেন্টে উপস্থিতি—সব মিলিয়ে গল্পে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছেন ভক্তরা।
বিশেষ করে আসিম আজহারের সাম্প্রতিক একক অ্যালবামে একটি গানে ‘হানিয়াআআ’ শব্দের ব্যবহার নেটিজেনদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেকেই মনে করছেন, এটি নিছক কাকতাল নয়।
এত কিছুর মাঝেই আলোচনায় আসেন প্রখ্যাত জ্যোতিষী সামিয়া খান। রাশিফল বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বিয়ে করলে হানিয়ার বিচ্ছেদের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এই সময়টাতে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের চেয়ে ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের।
একজন সফল, স্বাধীন অভিনেত্রীর জীবন কি আদৌ গ্রহ-নক্ষত্রের রেখায় বাঁধা?
হানিয়া আমির: গুঞ্জনের ঊর্ধ্বে এক নাম…
হানিয়া আমির কেবল প্রেমের গল্প বা গসিপের চরিত্র নন। ‘মেরি জিন্দেগি’, ‘ইশকিয়া’, ‘সাঙ্গে মাহ’-এর মতো নাটকে অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেত্রী হিসেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি স্পষ্টভাষী, সাবলীল এবং আত্মবিশ্বাসী—যা তাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।
তাই বিয়ে হবে কি না, কবে হবে—তা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও ভক্তদের বড় অংশ মনে করেন, হানিয়ার জীবন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একান্তই তার নিজের।
ভবিষ্যদ্বাণী আসে, যায়। গুঞ্জন জন্ম নেয়, আবার মিলিয়ে যায় সময়ের স্রোতে। কিন্তু হানিয়া আমিরের সেই এক লাইনের জবাব যেন মনে করিয়ে দেয়— তারকাদের জীবনও শেষ পর্যন্ত মানুষেরই জীবন, যেখানে হাসি আছে, স্বাধীনতা আছে, আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও আছে।
২০২৬ সালে বিয়ে হোক বা না হোক, ডিভোর্স তো দূরের কথা—এই মুহূর্তে হানিয়া আমির আছেন নিজের জায়গায়, নিজের শর্তে। আর সেটাই হয়তো সবচেয়ে বড় সত্য।