ব্যস্ত নগর, ছুটে চলা মানুষ, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়ানো জীবন এই বাস্তবতার মাঝেই কখনো হঠাৎ জন্ম নেয় এক অদ্ভুত অনুভূতি। সেই ক্ষণিক দেখা, সেই মায়াবী চাহনি, কিংবা একটি বাঁকা হাসি বদলে দিতে পারে পুরো দিনের রঙ। এমনই এক শহুরে আবেগের গল্প নিয়ে এসেছে গান ‘মেট্রো’।
নাবিল শুভ্র ও প্রতীক ইয়াসিরের কথায়, সেতু চৌধুরীর সুরে এবং আমজাদ হোসেনের সংগীতায়োজনে তৈরি এই গানটি একদিকে যেমন আধুনিক নগরজীবনের প্রতিচ্ছবি, অন্যদিকে তেমনি এক অপূর্ণ প্রেমের দীর্ঘশ্বাস। গানটি ভালোবাসা দিবসে অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রতীক ইয়াসিরের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হবে।
গানের শুরুতেই উঠে আসে এক দৃশ্য মেট্রোরেলে দেখা এক মেয়ের মায়াবী চাহনি। শহরের ব্যস্ততার মাঝেও সেই চোখ যেন আলাদা করে ধরা দেয়। ‘মায়াবী চাহনি দিয়ে ঘুম ভাঙা কবিতায় পাগল হারা করলে আমায়’ এই পঙক্তি শুধু প্রেম নয়, বরং বিস্ময়েরও প্রকাশ। এখানে প্রেম শুরু হয় কোনো কথোপকথন দিয়ে নয়; শুরু হয় অনুভূতির ভিতরে। মেট্রোরেলের মতো দ্রুতগতির পরিবহনে সম্পর্কের সময়ও ক্ষণস্থায়ী। তবু সেই সামান্য সময়েই জন্ম নেয় গভীর স্মৃতি এই বৈপরীত্যই গানের মূল শক্তি।
গানে বারবার ফিরে আসে স্মৃতির কথা। ‘দিনে রাতে সন্ধে বেলায় সেই স্মৃতি মনে পড়ে যায়’ এই লাইন নগরজীবনের নিঃসঙ্গতার সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। একটি ক্ষণিকের ভালো লাগা হয়তো বাস্তবে কোনো সম্পর্কের রূপ নেয়নি। তবুও তা মনে গেঁথে থাকে। গানের নায়ক স্বীকার করছে ‘তুমি ভুলে যেতে পারো, আমি ভুলিনি আজও।’ এই একতরফা স্মৃতি ও অপেক্ষাই গানের আবেগকে গভীর করে তোলে।
গানে শহরকে বলা হয়েছে ‘অশান্ত এই বিষাদ নগর।’ আধুনিক শহর শুধু আলো ঝলমলে নয়, এর ভেতরে আছে নিঃসঙ্গতা, ক্লান্তি আর একাকিত্বও। মেট্রোরেলের ভিড়ে মানুষে মানুষে দূরত্ব কমে, কিন্তু মন থেকে মন কি সত্যিই কাছে আসে? গানের কথায় সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা আছে। এখানে প্রেম কেবল রোমান্টিক নয়; এটি শহুরে বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করা এক আবেগ। কৃত্রিমতার ভিড়ে সত্যিকারের অনুভূতি ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা।
সেতু চৌধুরীর সুরে গানটি পেয়েছে এক ধরনের নরম, স্মৃতিময় আবহ। আমজাদ হোসেনের সংগীতায়োজন শহুরে অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো যেখানে আছে আধুনিকতার ছোঁয়া, আবার আছে আবেগের গভীরতা।
গানের পুনরাবৃত্ত অংশগুলো শ্রোতার মনে এক ধরনের আবেশ তৈরি করে। বিশেষ করে ‘তোমাকে ভুলিনি, ভালো কি বেসেছিলে আমায়’ এই লাইনটি প্রশ্নের মতো ফিরে আসে, যেন উত্তরহীন এক চিঠি।
বর্তমান সময়ে শহর, মেট্রোরেল, দ্রুত জীবন এসব নিয়ে গান খুব বেশি তৈরি হয় না। ‘মেট্রো’ গানটি সেই জায়গায় ভিন্নতা এনেছে। এটি গ্রামবাংলার প্রেম নয়, নয় প্রকৃতির পটভূমি; এটি সম্পূর্ণ নগর-ভিত্তিক এক অনুভূতির গল্প। এখানে প্রেমের সময় খুব কম, কিন্তু অনুভূতির গভীরতা তীব্র। দেখা হয়তো কয়েক স্টেশনের, কিন্তু স্মৃতি আজীবনের।