ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান যেন এক ফিনিক্স পাখি। কোভিড পরবর্তী সময়ে প্রায় নয় মাসের দীর্ঘ মার্কিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে ২০২২ সালে যখন তিনি দেশে ফেরেন, তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল; বদলে যাওয়া এই ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি কি আগের মতো দাপট ধরে রাখতে পারবেন? কিন্তু সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে শাকিব প্রমাণ করেছেন কেন তিনি এককভাবে শাসন করছেন দেশি সিনেমা। তবে এই নতুন যাত্রায় শাকিব খানের কৌশলে এসেছে এক বিশাল পরিবর্তন। অভিজ্ঞ নির্মাতাদের চেয়ে তিনি এখন অনেক বেশি আস্থা রাখছেন তরুণ এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের ওপর। এই সাহসী সিদ্ধান্তের ফলেই শাকিব নিজেকে কেবল ব্যবসায়িক সাফল্যের চূড়ায় রাখেননি, বরং লুক এবং অভিনয়ে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়।
শাকিবের এই ‘নতুন মিশন’ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’ সিনেমার মাধ্যমে। শত শত নাটক ও বিজ্ঞাপন নির্মাণের অভিজ্ঞতা থাকলেও বড় পর্দায় তপু খানের অভিষেক ঘটেছিল এই সিনেমার মাধ্যমেই। শাকিব জানতেন নতুন নির্মাতার নতুন চিন্তাই পারে তাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে। সেই একই বছরের কোরবানির ঈদে মুক্তি পায় ‘প্রিয়তমা’। যদিও এটি পরিচালক হিমেল আশরাফের দ্বিতীয় সিনেমা ছিল, কিন্তু শাকিবকে নিয়ে তার করা এই কাজ পুরো দেশের প্রেক্ষাগৃহে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনা তৈরি করে। দীর্ঘ বিরতির পর সিনেপ্লেক্স থেকে শুরু করে সাধারণ সিঙ্গেল স্ক্রিন, সব জায়গায় শাকিব ঝড়ে কুপোকাত হয় বক্স অফিস। এই সিনেমাটিই মূলত শাকিব খানকে আধুনিক ঢালিউডের এক নতুন আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
সদ্য বিদায়ী বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘বরবাদ’ দিয়ে শাকিব আরও একবার চমকে দেন দর্শকদের। ছোট পর্দার নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ের এটিই ছিল প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। অ্যাকশন ঘরানার এই সিনেমায় শাকিবের ভিন্নধর্মী লুক ও দুর্দান্ত অভিনয় সমালোচকদেরও প্রশংসা কুড়ায়। প্রযোজকদের দাবি অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সফল একটি সিনেমা। তরুণ নির্মাতাদের কারিগরি জ্ঞান এবং বিশ্বমানের মেকিংয়ের সাথে শাকিবের স্টারডম মিলেমিশে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যার সুফল পাচ্ছে পুরো ইন্ডাস্ট্রি। নতুনদের ওপর শাকিবের এই ভরসা কেবল নিজের ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, বরং নতুন পরিচালক তৈরির কারখানাতেও পরিণত হয়েছে ঢালিউডকে।
সামনের কোরবানির ঈদের প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে সেরে ফেলেছেন এই মেগাস্টার। সেখানেও প্রথাগত বড় নির্মাতাদের বদলে তিনি বেছে নিয়েছেন আজমান রুশোকে। বিজ্ঞাপন জগতে হাত পাকানো রুশোর এটিই হবে প্রথম চলচ্চিত্র। প্রাথমিকভাবে ‘রকস্টার’ নাম দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এই সিনেমায় শাকিব ফিরছেন তার চিরচেনা সেই রোমান্টিক আবহে। একজন রকস্টারের জীবনের চড়াই-উতরাই আর প্রেমের ভিন্নধর্মী গল্পে নিজেকে মেলে ধরতে প্রস্তুত তিনি। শাকিবের এই নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন নতুন নির্মাতাদের যেমন সাহস দিচ্ছে, তেমনি দর্শকদের উপহার দিচ্ছে নতুন ধাঁচের সিনেমা।