Monday 16 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তারেক রহমান হবেন জনতার প্রধানমন্ত্রী: জুবায়ের বাবু

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০৭

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছেন নির্মাতা, সাংবাদিক ও সম্প্রচারক জুবায়ের বাবু।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিস্তৃত শুভেচ্ছা বার্তায় জুবায়ের বাবু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান যে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, ধৈর্য ও কৌশলগত সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। তার ভাষায়, ‘এই বিজয় কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, জনসম্পৃক্ততা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অদম্য প্রত্যয়ের ফল।’

বিজ্ঞাপন

জুবায়ের বাবু বলেন, গত দেড় দশকে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল নানা সংকট, বিভাজন ও দমন-পীড়নে চিহ্নিত। বিরোধী রাজনীতির ওপর কঠোর নজরদারি, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ— এসবের মধ্যেও বিএনপি সাংগঠনিকভাবে টিকে থেকেছে এবং জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অটুট রেখেছে। তিনি বলেন, ‘যে দল ও নেতৃত্ব দীর্ঘ সময় চাপের মুখে থেকেও ভেঙে পড়েনি, বরং নিজেদের পুনর্গঠিত করেছে— তাদের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।’

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করলেও তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সংকট, যুবসমাজের প্রত্যাশা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্বেগ সম্পর্কে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ, নীতিগত বক্তব্য এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি দলের ভেতরে ও বাইরে এক ধরনের নেতৃত্বের উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘দূরত্ব কখনোই তারেক রহমানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে দুর্বল করতে পারেনি; বরং সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে আরও প্রস্তুত করেছেন।’

শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায় স্পষ্ট— তারা পরিবর্তন চেয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের নেতৃত্বে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করেছে। ভোটাররা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারের অঙ্গীকারের ওপর আস্থা রেখেছে।

জুবায়ের বাবু উল্লেখ করেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোষহীন নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। তার মতে, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে দর্শন বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে উচ্চারিত হয়ে আসছে, তার আধুনিক রূপায়ণ ঘটানোর সুযোগ এখন তারেক রহমানের সামনে এসেছে।

এক-এগারো পরবর্তী সময় এবং পরবর্তী শাসনামলে তারেক রহমানকে জোরপূর্বক নির্বাসনে রাখা হয়েছিল— এমন অভিযোগ তুলে জুবায়ের বাবু বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে তাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু জনগণের হৃদয় থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি।’ তিনি মনে করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনী রায় প্রমাণ করেছে— জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয় এবং দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার মূল্যায়ন করেই ভোট দেয়।

জুবায়ের বাবু আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে উদ্যোগী হবে, বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করবে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, যুবসমাজের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শুভেচ্ছা বার্তায় জুবায়ের বাবু বলেন, ‘ক্ষমতা নয়, জনতা— সবার আগে বাংলাদেশ’— এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে তারেক রহমান দেশ পরিচালনায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবেন— এটাই আজ জনগণের প্রত্যাশা। তিনি বিশ্বাস করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আগুন
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:১৯

আরো

সম্পর্কিত খবর