‘ছেলে ট্যাটু করতে চায়’- এমন এক প্রশ্ন ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। তিনি জানতে চেয়েছেন, একজন মুসলিম হিসেবে তার ছেলে ট্যাটু করতে পারবে কি না। ছোট একটি স্ট্যাটাস, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে আছে ধর্মীয় বিশ্বাস, আধুনিক জীবনধারা আর একজন মায়ের স্বাভাবিক দুশ্চিন্তা।
অপুর একমাত্র ছেলে আব্রাহাম খান জয় মুসলিম রীতিনীতি অনুযায়ী বড় হচ্ছে। যদিও অপু নিজে হিন্দু ধর্মাবলম্বী, তিনি বিয়ে করেছিলেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান-কে। সন্তানের বেড়ে ওঠা, শিক্ষা আর ধর্মীয় চর্চা, সবকিছু নিয়েই বরাবর সচেতন এই অভিনেত্রী। তাই ছেলের ট্যাটু করার ইচ্ছা সামনে আসতেই তিনি সরাসরি অনুসারীদের মতামত জানতে চেয়েছেন।
সমাজে ট্যাটু এখন আর অচেনা কিছু নয়। অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে এটি ফ্যাশন, নিজস্বতার প্রকাশ কিংবা প্রিয় কিছু স্মরণে রাখার একটি উপায়। তবে ইসলাম ধর্মে স্থায়ী ট্যাটু নিয়ে আপত্তির কথা বহু আলেমই উল্লেখ করেন। শরীরে স্থায়ী পরিবর্তন আনা এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যার কারণে অনেকেই এটিকে নিষিদ্ধ বলে মনে করেন। ফলে বিষয়টি শুধু পছন্দ-অপছন্দের নয়, বিশ্বাসের জায়গার সঙ্গেও জড়িয়ে যায়।
অপুর পোস্টে অনেকে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইসলামে ট্যাটু করা উচিত নয়। আবার কেউ বলেছেন, বয়স বাড়ুক, পরিণত হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। কেউ কেউ ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কথাও তুলেছেন। এই ভিন্নমতই দেখায়, একই সমাজে থেকেও মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কত আলাদা হতে পারে।
আসলে এমন পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবকই পড়েন। সন্তান যখন নতুন কিছু চায়, তখন সেটি মানা বা না মানার আগে শুরু হয় ভেতরের দ্বন্দ্ব। ধর্মীয় বিধান, সামাজিক ভাবনা আর সন্তানের ইচ্ছা। সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয় না। তবে খোলামেলা কথা বলা, সন্তানের ভাবনা শোনা এবং নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বোঝানো, এগুলোই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।