দীর্ঘ পাঁচ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে অবশেষে রূপালি পর্দায় ফিরছেন কাজী আনোয়ার হোসেনের কালজয়ী গোয়েন্দা চরিত্র মাসুদ রানা। দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে, আগামী কোরবানির ঈদেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই সিনেমাটি। আগামী ৯ এপ্রিল ট্রেলার প্রকাশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ছবিটির আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শক মহলে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
২০২০ সালে মাসুদ রানা সিরিজের ওপর ভিত্তি করে দুটি সিনেমা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল যার মধ্যে একটি হলিউড ঘরানায় নির্মিত হলেও সৈকত নাসির পরিচালিত এই দেশীয় সিনেমাটির কাজ মাঝপথে আটকে ছিল। প্রযোজক আব্দুল আজিজ আশ্বস্ত করেছেন যে, মূল উপন্যাসের স্বাদ বজায় রাখতে সরাসরি কাজী আনোয়ার হোসেনের অনুমোদিত চিত্রনাট্য মেনেই বড় বাজেটে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক নির্মাণশৈলী আর চিত্রগ্রহণে কোনো রকম আপস করা হয়নি বলে দাবি প্রযোজনা সংস্থার। মজার ব্যাপার হলো, সিনেমার প্রায় সব কাজ পাঁচ বছর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, শুধু মাত্র এক দিনের একটি বিশেষ দৃশ্যধারণ বাকি আছে যার জন্য বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে টিম। এই মাসের মধ্যেই সম্পাদনা ও ডাবিং শেষ করে সিনেমাটি পুরোপুরি সেন্সরের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
এই সিনেমায় গোয়েন্দা মাসুদ রানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন রাসেল রানা। আর তার ছায়াসঙ্গী ও দুর্ধর্ষ সোহানা চরিত্রে দেখা যাবে চিত্রনায়িকা পূজা চেরিকে। নিজের চিরচেনা রোমান্টিক ইমেজের বাইরে গিয়ে এই ছবির জন্য পূজাকে করতে হয়েছে কড়া অ্যাকশন দৃশ্য, যা দর্শকদের জন্য একটি বড় চমক হতে পারে। পাশাপাশি অবনিতা চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৈয়দা তিথি অমনি। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে মাল্টিপ্লেক্স ও দেশের সিনেমা হলগুলোতে মাসুদ রানার দুঃসাহসিক অভিযান দেখতে পাওয়ার প্রত্যাশায় এখন প্রহর গুনছেন ভক্তরা। দীর্ঘদিন থমকে থাকা এই প্রকল্পটি অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে জেনে বিনোদন পাড়াতেও বইছে খুশির আমেজ।