Sunday 12 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইরানি শিল্পীর সুরের প্রতিবাদেই থামলো যুদ্ধ!

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩১

রণক্ষেত্র যখন সংবাদের শিরোনাম জুড়ে থাকে, তখন সুরের মূর্ছনা হয়ে উঠতে পারে প্রতিবাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা। ইরানের সংগীতশিল্পী আলি ঘামসারি ঠিক এই কাজটিই করেছেন এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায়। যুদ্ধের দামামা আর ধ্বংসের আশঙ্কার মাঝে তিনি কোনো ব্যানার হাতে রাজপথে নামেননি, বরং বেছে নিয়েছেন তার চিরচেনা বাদ্যযন্ত্র ‘তার’। তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কঠোর শিল্প অবকাঠামোর সামনে কেবল একটি সাধারণ চাটাই বিছিয়ে তিনি যখন বসলেন, তখন চারপাশের যান্ত্রিক রুক্ষতা যেন হার মানল তার হাতের আঙুলের ছোঁয়ায়। পারস্য শাস্ত্রীয় সংগীতের সেই ধীর আর গভীর সুর কেবল বাতাসেই ছড়ালো না, তা হয়ে উঠল এক আর্তনাদহীন অনুরোধ।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি ইরানের অসংখ্য মানুষের ঘরের আলো আর জীবনযাত্রার প্রতীক। সেই অবকাঠামোর সামনে বসে ঘামসারির এই সুরের ব্যঞ্জনা বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধের আঘাত কেবল মানচিত্র পরিবর্তন করে না, তা কেড়ে নেয় সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনের ছন্দ। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, যান্ত্রিক কোলাহলকে ছাপিয়ে উঠছে শিল্পের এক কোমল শক্তি। নেটিজেনরা এই সুরকে দেখছেন শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে। অনেকে সরাসরি বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন, ধ্বংসের নেশা যেন এই সাধারণ জীবনগুলোকে গ্রাস না করে।

আলি ঘামসারির এই সুর কোনো দেশ বা সীমানার গণ্ডিতে আটকে থাকেনি। তিনি তার বার্তায় স্পষ্ট করেছেন, কোনোভাবেই যেন মানুষের ঘরের আলো নিভে না যায়। এই নীরব কিন্তু সুগভীর প্রতিবাদ বিশ্বের কাছে প্রমাণ করল যে, কামানের গোলার চেয়েও তারের একটি মৃদু টান কখনো কখনো বেশি প্রভাবশালী হতে পারে। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেলে ঘামসারি যে পথ দেখালেন, তা কেবল সংগীত নয়—তা হলো মানবতার এক অনন্য আরজি, যা শিখিয়ে দেয় অশান্ত সময়ে শান্ত থাকার অসীম সাহস।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর