সাতবার প্রেম আর চারবার বিয়ের পিঁড়িতে বসাবাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে জেনিফার লোপেজ ভালোবাসার কানাগলিতে বারবার পথ হারিয়েছেন। কিন্তু এই গ্ল্যামারাস পপ তারকার জীবনের ভেতরের গল্পটা একটু অন্যরকম। এতগুলো সম্পর্কের পরও যেন জীবনের সেই কাঙ্ক্ষিত ‘খাঁটি ভালোবাসা’ তার কাছে আজও অধরা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন আর সম্পর্কের এই জটিল সমীকরণ নিয়ে একরাশ অকপট স্বীকারোক্তি দিয়েছেন জে-লো।
জেনিফারের মতে, তিনি ভালোবাসার অযোগ্য ছিলেন না, বরং তার জীবনে আসা মানুষগুলো তাকে সঠিকভাবে ভালোবাসতে ব্যর্থ হয়েছে। সাবেক স্বামীদের প্রতি একরকম অভিযোগের সুরেই তিনি জানান, তাদের মনোযোগ ভালোবাসার চেয়ে বেশি ছিল জাগতিক জিনিসের ওপর দামি আংটি কিংবা রাজকীয় অট্টালিকাই ছিল তাদের মূল আকর্ষণ। এই দীর্ঘ যাত্রায় বেন অ্যাফ্লেক কিংবা মার্ক অ্যান্টনির মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘর বাঁধলেও মনের গহিনের সেই শূন্যস্থানটি কখনও পূরণ হয়নি।
তবে এই বিফলতার পেছনে অন্যের পাশাপাশি নিজের দিকেও আঙুল তুলেছেন জেনিফার। তিনি উপলব্ধি করেছেন, একটা সময় তিনি নিজেকেই ভালোবাসতে জানতেন না। আর যে নিজের মূল্য বোঝে না, সে অন্যের কাছ থেকেও সঠিক ভালোবাসা দাবি করতে পারে না। জীবনের এই চড়াই-উতরাই তাকে একটি বড় শিক্ষা দিয়েছে—তা হলো আত্মপ্রেম। এখন তিনি নিজেকে ভালোবাসতে শিখেছেন, শিখেছেন নিজের মনের যত্ন নিতে।
একাধিক সম্পর্কের ভাঙা-গড়ার খেলাকে নেতিবাচকভাবে দেখতে নারাজ এই তারকা। বরং এই প্রতিটি অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিপক্ক করেছে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জেনিফার এখন এক নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্যারিয়ারের মতোই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগে সবসময় খোলামেলা থাকলেও, এখন থেকে তা আড়ালেই রাখতে চান তিনি। গোপনীয়তার চাদরে নিজের ব্যক্তিগত জগতকে মুড়িয়ে আবারও সেই আসল ভালোবাসার সন্ধানে নামতে চান বিশ্বখ্যাত এই পপ সাম্রাজ্যের রানী।