বইয়ের চেয়ে মূল্যবান সম্পদ পৃথিবীতে আর নেই— কথাটি আক্ষরিক অর্থেই প্রমাণ করে দিল ১৮১৮ সালে প্রকাশিত একটি বই। গা ছমছমে ভূতের গল্প বা হরর ক্লাসিক হিসেবে পরিচিত মেরি শেলির অমর সৃষ্টি ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন: অর, দ্য মডার্ন প্রমিথিউস’-এর একটি কপি সম্প্রতি নিলামে বিক্রি হয়েছে রেকর্ড মূল্যে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও, একটিমাত্র বইয়ের দাম উঠেছে ৮ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা!
কেন এই বইটির দাম এতো আকাশছোঁয়া?
নিলামে ওঠা এই বিশেষ বইটি কেন সাধারণ আর দশটি পুরনো বইয়ের চেয়ে আলাদা, তার পেছনে রয়েছে চমকপ্রদ কিছু কারণ:
দুর্লভ প্রথম সংস্করণ: ১৮১৮ সালে লন্ডনে যখন বইটি প্রথম ছাপা হয়, তখন গোলাপি মলাটে এর মাত্র ৩টি কপি বিশেষ অবস্থায় টিকে ছিল। এর মধ্যে ২টি কপি রয়েছে নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরিতে। আর একমাত্র যে কপিটি কোনো ব্যক্তির সংগ্রহে ছিল, সেটিই এই নিলামে ওঠা বইটি।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: মেরি শেলি যখন এই কালজয়ী উপন্যাসটি লেখা শুরু করেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮। ২০ বছর বয়সে (১ জানুয়ারি, ১৮১৮) যখন এটি প্রকাশিত হয়, তখন নারী লেখকের নাম সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না ভেবে এতে কোনো লেখকের নাম ছাপা হয়নি।
ব্যক্তিগত সংগ্রহের রত্ন: এই কপির মালিক ছিলেন সংগ্রাহক স্ট্রুটজ। তিনি ১৯৭৫ সালে অন্য এক সংগ্রাহকের কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এটি জনসমক্ষে আসায় বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে যায়।
যে গল্প আজও শিহরণ জাগায়
ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন নামের একজন তরুণ বিজ্ঞানীর অদম্য কৌতূহল থেকে জন্ম নেওয়া এক অদ্ভুত প্রাণীর গল্প এটি। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাণহীন বস্তুকে জীবন দিতে গিয়ে ভিক্টর অজান্তেই তৈরি করেন এক ‘দানব’। ইতালির নেপলসের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ভিক্টরের শৈশব থেকে বড় হওয়া এবং তার সেই সৃষ্টির ভয়াবহ পরিণতি—সব মিলিয়ে আজ থেকে ২০০ বছর আগেও পাঠকদের যেভাবে শিহরিত করত, আজও তা সমানে জনপ্রিয়।
এক নজরে বইটির কিছু অজানা তথ্য
প্রকাশকাল: ১ জানুয়ারি, ১৮১৮ (লন্ডন)।
লেখকের নাম প্রকাশ: প্রথম সংস্করণে মেরি শেলির নাম ছিল না। ১৮২১ সালে প্যারিস থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় সংস্করণে প্রথমবারের মতো লেখকের নাম যুক্ত হয়।
নিলামের মূল্য: ডলার প্রতি ১১৭ টাকা হিসেবে এর দাম দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৮৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা।
বিশ্ব রেকর্ড: এটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দামি এবং বিরলতম ছাপানো সাহিত্যগ্রন্থের একটি।
বই কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবেও যে কতটা মূল্যবান হতে পারে, ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’-এর এই নিলাম তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।