একজন আছেন, চা না হলে সকালে চোখই খোলে না। আরেকজন আবার বিস্কুট চায়ে ডুবিয়ে খেলে পৃথিবীর সব সুখ খুঁজে পান। কেউ কথা বলার সময় হাত-পা নাচান, কেউ আবার হেঁটে যেতে যেতে নিজের সঙ্গেই তর্ক করেন। এদের দেখেই অনেক সময় আমরা বলি— “লোকটা একটু অদ্ভুত!” কিন্তু এই ‘অদ্ভুত’ মানুষদের নিয়েই আজ— ১০ জানুয়ারি, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে পেকুলিয়ার পিপল ডে (Peculiar People Day)।
অদ্ভুত মানেই কি অস্বাভাবিক?
একদমই না। এই দিবসের মূল কথাই হলো— ভিন্ন হওয়াটা কোনো সমস্যা নয়, বরং সেটাই মানুষকে মানুষ করে। সবাই যদি একইভাবে কথা বলত, একই রুচির গান শুনত, একই রকম পোশাক পরত— তাহলে পৃথিবীটা হতো বড়ই একঘেয়ে।
দিবসটির শুরু যেভাবে
এই দিবসের কোনো সরকারি ঘোষণা নেই, নেই বড় কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার আয়োজনও। মূলত পশ্চিমা দেশগুলোতে হালকা বিনোদন ও সামাজিক সচেতনতার অংশ হিসেবেই দিনটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
কে এই ‘পেকুলিয়ার’ মানুষ?
যিনি বইয়ের ভাঁজে ফুল শুকান,
যিনি ঘুমানোর আগে অ্যালার্ম পাঁচবার চেক করেন,
যিনি রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে আকাশের দিকে তাকান,
কিংবা যিনি নিজের ভুলেই সবচেয়ে বেশি হাসেন,
আসলে আমরা সবাইই কোনো না কোনোভাবে পেকুলিয়ার— শুধু কেউ সেটা লুকায়, কেউ গর্ব করে।
কেন এই দিবস গুরুত্বপূর্ণ?
এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়— সবাই একরকম হওয়ার দরকার নেই। সমাজের চোখে ‘অদ্ভুত’ মানুষরাই অনেক সময় নতুন চিন্তার জন্ম দেন। সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন আর সাহস আসে ভিন্নতা থেকেই আইনস্টাইন, ভ্যান গগ, চার্লি চ্যাপলিন— নিজ নিজ সময়ে তারাও ছিলেন ‘অদ্ভুত’।
কীভাবে পালন করা যায়?
খুব সহজ—
নিজের অদ্ভুত দিকগুলো মেনে নিন,
বন্ধুদের ভিন্নতাকে সম্মান করুন,
কাউকে তার আলাদা হওয়ার জন্য ছোট করবেন না,
আজ অন্তত একদিন নিজেকে বলুন— “আমি যেমন, ঠিক তেমনই ভালো”
শেষ কথা
পেকুলিয়ার পিপল ডে আমাদের হাসতে শেখায়, ভাবতে শেখায়—স্বাভাবিক হওয়ার চাপে নয়, নিজের মতো করে বাঁচাই আসল স্বাভাবিকতা। তাই আজ যদি কেউ আপনাকে বলে, “তুমি একটু অদ্ভুত”—হালকা হেসে বলুন, “ধন্যবাদ, আজ আমার দিন!”