১২ জানুয়ারি— বিশ্বের নানা প্রান্তে এই দিনটি বেশ মজার ও ব্যতিক্রমী এক দিবস হিসেবে পরিচিত— কিস আ জিঞ্জার ডে (Kiss a Ginger Day)। নাম শুনেই বোঝা যায়, দিনটি উৎসর্গ করা হয়েছে লাল চুলের মানুষদের জন্য; যাদের ইংরেজিতে বলা হয় Ginger।
কেন ‘জিঞ্জার’?
লাল চুল প্রাকৃতিকভাবেই বিরল। বিশ্বে মাত্র ১–২ শতাংশ মানুষের চুল লাল রঙের। এই চুলের পেছনে রয়েছে এক বিশেষ জিন— MC1R। কিন্তু বিরল হওয়ার কারণেই ইতিহাসজুড়ে লাল চুলের মানুষদের নিয়ে ছড়িয়েছে নানা কুসংস্কার, ব্যঙ্গ ও উপহাস। কখনো ডাইনী, কখনো অশুভ— অযৌক্তিক এসব ধারণা অনেক সময়ই তাদের সামাজিকভাবে বিব্রত করেছে।
দিবসটির জন্মকথা
এই নেতিবাচক ধারণার বিরুদ্ধে ইতিবাচক বার্তা ছড়াতেই ১২ জানুয়ারি পালিত হতে শুরু করে কিস আ জিঞ্জার ডে। দিবসটির মূল ভাবনা খুবই সহজ—
ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া,
বৈষম্য ও কটাক্ষের বিপরীতে সম্মান জানানো,
এখানে ‘কিস’ মানে শুধু ঠোঁটের চুমু নয়; বরং সম্মান, বন্ধুত্ব, স্বীকৃতি ও ভালোবাসার প্রতীক।
মজার যত রীতি
এই দিনে কেউ কেউ লাল চুলের বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেন। কোথাও কোথাও মজা করে বলা হয়—
‘আজ জিঞ্জারদের নিয়ে ঠাট্টা নয়, বরং চকলেট আর হাসি উপহার দিন!’
অনেকে আবার লাল চুলের মানুষের গুণাবলি তুলে ধরে লেখেন ছোট গল্প, কবিতা কিংবা মজার ক্যাপশন।
বৈজ্ঞানিক কৌতূহল
লাল চুলের মানুষদের ব্যথা সহনশীলতা ভিন্ন হতে পারে,
সূর্যের আলোতে তাদের ত্বক বেশি সংবেদনশীল,
বয়স বাড়লেও অনেকের চুল ধূসর না হয়ে হালকা সোনালি হয়ে যায়,
বিজ্ঞানও বলছে— জিঞ্জাররা আসলে আলাদা, আর সেই আলাদাপনাই তাদের সৌন্দর্য।
আমাদের সমাজে এর বার্তা
বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ায় লাল চুল খুব কম দেখা যায়। তবে এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
চেহারা, রং বা গঠনের ভিন্নতা কখনোই ঠাট্টার বিষয় হতে পারে না,
বৈচিত্র্যই মানবসমাজের আসল সৌন্দর্য।
শেষ কথা
কিস আ জিঞ্জার ডে কোনো বড় আনুষ্ঠানিক দিবস নয়, কিন্তু এর বার্তাটি বড়—
ভিন্নতাকে ভালোবাসুন। কটাক্ষ নয়, দিন সম্মান।
আজ না হয় কোনো লাল চুলের মানুষ না পেলেও, অন্তত এমন কাউকে ভালোবাসা দিন— যিনি অন্যরকম। কারণ পৃথিবীটা সুন্দর ঠিক এই ‘অন্যরকম’ মানুষগুলোর জন্যই।