হলুদ রঙের গোলগাল একটি ভালুক, লাল ছোট্ট শার্ট আর মুখভরা সরল হাসি—শিশুদের গল্পের জগতে যার নাম এলেই চোখে ভাসে নির্ভেজাল আনন্দ। সেই চিরচেনা চরিত্র উইনি দ্য পুহ–কে ঘিরেই আজ, ১৮ জানুয়ারি, পালিত হচ্ছে উইনি দ্য পুহ দিবস (Winnie the Pooh Day)।
এই দিনটি আসলে পুহর জন্মদিন নয়, বরং তার স্রষ্টা ব্রিটিশ লেখক এ. এ. মিলন (A. A. Milne)–এর জন্মদিন। ১৮৮২ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া মিলনের কলম থেকেই জন্ম নেয় এমন এক ভালুক, যে শত বছর পেরিয়েও শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বড়দের মন জয় করে চলেছে।
মধুপ্রেমী এক ভালুকের গল্প
উইনি দ্য পুহের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা—মধু। পেটুক নয়, বরং নির্দোষ মধুপ্রেমী এই ভালুক নিজের ছোট্ট ভুলভাল কথাবার্তা আর সহজ-সরল চিন্তাভাবনা দিয়ে শেখায় জীবনের বড় বড় সত্য। পুহর ভাষায়, ‘Sometimes the smallest things take up the most room in your heart.’
হান্ড্রেড একর উডের বন্ধুত্ব
পুহ একা নয়। তার সঙ্গে আছে ভয়ুক পিগলেট, বুদ্ধিমান আউল, সবসময় দুঃখী ইয়ার, আর চঞ্চল টাইগার। হান্ড্রেড একর উড নামের কাল্পনিক বন যেন বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা আর পারস্পরিক বোঝাপড়ার এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। এখানে কেউ নিখুঁত নয়—আর সেটাই তাদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।
বাস্তব থেকে কল্পনার পথে
মজার বিষয় হলো, উইনি দ্য পুহ পুরোপুরি কল্পনার সৃষ্টি নয়। মিলনের ছেলে ক্রিস্টোফার রবিন–এর খেলনা ভালুক থেকেই পুহের ধারণা আসে। লন্ডন চিড়িয়াখানার একটি আসল ভালুকের নাম ছিল ‘উইনি’—সেখান থেকেই নামের প্রথম অংশ, আর ‘পুহ’ এসেছে শিশুসুলভ ডাকনাম থেকে।
কেন আজও প্রাসঙ্গিক পুহ?
ডিজিটাল যুগের দ্রুতগতির জীবনে উইনি দ্য পুহ মনে করিয়ে দেয়—
ধীরে চলার আনন্দ,
বন্ধুত্বের মূল্য,
অল্পে সুখ খুঁজে নেওয়ার কৌশল,
শিশুদের জন্য সে গল্পের চরিত্র হলেও বড়দের কাছে পুহ যেন এক নীরব দার্শনিক।
দিবসের আনন্দ
আজকের দিনে বিশ্বের নানা দেশে শিশুদের গল্প পাঠ, কার্টুন প্রদর্শনী, বইমেলা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় পুহের উক্তি শেয়ার করে দিবসটি উদযাপন করা হয়। অনেকেই পুরোনো শৈশবের বই খুলে আবার ফিরে যান হারানো সময়ের কাছে।
শেষ কথা
উইনি দ্য পুহ আমাদের শেখায়— সব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি নয়, মাঝে মাঝে শুধু এক চামচ মধু আর একগুচ্ছ বন্ধুই যথেষ্ট।