সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফেসবুক ও জিমেইল ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান সময়ে হ্যাকারদের কবল থেকে নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে কেবল একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ডই যথেষ্ট নয়। সুরক্ষার অতিরিক্ত স্তর হিসেবে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ (2FA) এখন অপরিহার্য। এই ফিচারটি সক্রিয় থাকলে আপনার পাসওয়ার্ড কেউ জেনে গেলেও আপনার অনুমতি বা ওটিপি (OTP) ছাড়া অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করতে পারবে না। যদি আপনার ফেসবুক ও জিমেইল এ ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ না থাকে তাহলে আসুন জেনে নেই সেই উপায়:
কেন টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন জরুরি
সাধারণত আমরা লগ-ইন করার সময় শুধু পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি। কিন্তু টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু থাকলে পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বা সিকিউরিটি অ্যাপে একটি ওটিপি আসবে। সেই গোপন কোডটি না দেওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা অসম্ভব। ফলে হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড চুরি করলেও আপনার ফোনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না।
ফেসবুকে টু-ফ্যাক্টর চালু করার সহজ ধাপসমূহ
১. সেটিংস-এ প্রবেশ: ফেসবুক অ্যাপের ডানদিকের ‘থ্রি-লাইন’ মেনু থেকে Settings & Privacy হয়ে Settings অপশনে যান।
২. অ্যাকাউন্ট সেন্টার: এবার Meta Accounts Center-এ ট্যাপ করে Password and Security অপশনটি বেছে নিন।
৩. সুরক্ষা স্তর: এখানে Two-Factor Authentication অপশনটিতে ক্লিক করে আপনার প্রোফাইলটি নির্বাচন করুন।
৪. পদ্ধতি নির্বাচন: কোড পাওয়ার জন্য ফেসবুক তিনটি মাধ্যম দেবে:
Authentication App: গুগল অথেনটিকেটরের মতো অ্যাপ (সবচেয়ে নিরাপদ)।
Text Message (SMS): আপনার মোবাইল নম্বরে এসএমএস আসবে (সবচেয়ে জনপ্রিয়)।
Security Keys: হার্ডওয়্যার ভিত্তিক চাবি।
৫. সক্রিয়করণ: সাধারণ ব্যবহারের জন্য Text Message (SMS) সিলেক্ট করে আপনার সচল মোবাইল নম্বরটি দিন। এরপর মোবাইলে আসা ৬ ডিজিটের কোডটি বসিয়ে ‘Done’ বাটনে ট্যাপ করলেই সুরক্ষা কবচ চালু হয়ে যাবে।
ভুলে যাবেন না ‘ব্যাকআপ কোড’ সংগ্রহ করতে
অনেক সময় নেটওয়ার্কের কারণে ফোনে এসএমএস আসতে দেরি হয়। এই বিপদ এড়াতে একই সেটিংস পেইজ থেকে Additional Methods-এ গিয়ে Recovery Codes অপশন থেকে ১০টি ব্যাকআপ কোড কপি করে কোনো নিরাপদ ডায়েরিতে লিখে রাখুন। ফোন হারিয়ে গেলে বা সিম নষ্ট হয়ে গেলেও এই কোডগুলো দিয়ে আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেন।
বিশেষ সতর্কতা
মনে রাখবেন, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করার পর আপনার ফোনে আসা ওটিপি (OTP) বা রিকভারি কোড কখনোই অন্য কাউকে জানাবেন না। কোনো অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করে কোড টাইপ করবেন না। আপনার সামান্য সচেতনতাই হতে পারে সাইবার নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।