Monday 16 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৯ হাজার বছরের প্রাচীন পাথরের সুঁই এক বিস্ময়কর অধ্যায়

ফারহানা নীলা স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪২

তিব্বত মালভূমির রুক্ষ ও প্রতিকূল পরিবেশে প্রত্নতাত্ত্বিকদের সাম্প্রতিক এক আবিষ্কার মানব সভ্যতার ইতিহাসের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সেখানে পাওয়া গেছে পাথরের তৈরি বিশ্বের প্রাচীনতম সেলাইয়ের সুঁই, যার বয়স ৯,০০০ বছরেরও বেশি। এই আবিষ্কার কেবল একটি প্রাচীন সরঞ্জামের সন্ধান নয়, বরং এটি আদিম মানুষের টিকে থাকার লড়াই এবং তাদের অভাবনীয় কারিগরি দক্ষতার এক জীবন্ত দলিল।

প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার হাতিয়ার

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অত্যন্ত উঁচুতে অবস্থিত তিব্বত মালভূমি তার চরমভাবাপন্ন জলবায়ু এবং হাড়কাঁপানো শীতের জন্য পরিচিত। আজ থেকে নয় হাজার বছর আগে, যখন আধুনিক বস্ত্রশিল্পের কোনো অস্তিত্বই ছিল না, তখন এই তীব্র শীতের মধ্যে টিকে থাকা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই পাথরের সুঁইগুলো ছিল সেই চ্যালেঞ্জ জয়ের প্রধান অস্ত্র। পশুর চামড়া সেলাই করে নিপুণভাবে গরম পোশাক তৈরির কাজে এগুলো ব্যবহৃত হতো। এই উন্নত মানের পোশাকই আদিম জনগোষ্ঠীকে মালভূমির চরম প্রতিকূলতায় টিকে থাকতে সাহায্য করেছিল।

বিজ্ঞাপন

সূক্ষ্মতা ও কারিগরি নিপুণতার চরম নিদর্শন

এই আবিষ্কারের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো সুঁইগুলোর গঠনশৈলী। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সুঁইগুলোর মধ্যে কয়েকটি এতটাই সরু যে তা মানুষের চুলের চেয়েও পাতলা। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগে পাথরকে ঘষে কীভাবে এত সূক্ষ্ম এবং মসৃণ করা সম্ভব হয়েছিল, তা গবেষকদের রীতিমতো চমকে দিয়েছে। পাথর দিয়ে তৈরি হওয়া সত্ত্বেও এগুলো অত্যন্ত চমৎকারভাবে পালিশ করা এবং এর ভেতরের ছিদ্রগুলো নিখুঁতভাবে তৈরি। এই কারুকার্য প্রমাণ করে যে, তৎকালীন কারিগরদের দক্ষতা হাজার বছর পরের অনেক ধাতব সুঁইয়ের সূক্ষ্মতাকেও অনায়াসেই হার মানাতে পারে।

মানব উদ্ভাবনী ক্ষমতার নতুন মূল্যায়ন

সাধারণভাবে মনে করা হয় যে, প্রস্তর যুগের মানুষ প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত সাধারণ বা সরল ছিল। তবে তিব্বতের এই আবিষ্কার সেই ধারণাটিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। উচ্চ উচ্চতায় বসবাসকারী এই আদিম মানুষেরা কেবল প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়েই নেয়নি, বরং তারা অত্যন্ত জটিল সমস্যা সমাধানের কৌশলও আয়ত্ত করেছিল। পাথরের মতো শক্ত উপাদানকে এমন নমনীয় ও কার্যকরী সরঞ্জামে রূপান্তর করার ক্ষমতা নির্দেশ করে যে, আদিম যুগের কারুশিল্প এবং প্রযুক্তি আমাদের বর্তমান ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও পরিশীলিত ছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব ও ঐতিহ্যের সন্ধান

আর্কিওলজি নিউজ এবং গবেষক ডারিও র‍্যাডলির তথ্য অনুযায়ী, এই সুঁইগুলো তিব্বত মালভূমির প্রাচীন জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা বোঝার ক্ষেত্রে এক অনন্য সূত্র হিসেবে কাজ করছে। এটি প্রমাণ করে যে, মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রা কেবল সমতলে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পৃথিবীর কঠিনতম স্থানগুলোতেও মানুষ তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। এই পাথর খণ্ডগুলো আজ কেবল জড় বস্তু নয়, বরং এগুলো আদিম মানুষের অদম্য প্রাণশক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অমর সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর