জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এক বিশেষ দিন। ১৯৩০ সালের এই দিনে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী Clyde Tombaugh দূরবীক্ষণ যন্ত্রে এক ক্ষীণ আলোর বিন্দু শনাক্ত করেন। সেটিই পরে পরিচিত হয় প্লুটো নামে তৎকালীন সৌরজগতের নবম গ্রহ হিসেবে। সেই আবিষ্কারের স্মরণেই প্রতিবছর পালিত হয় Pluto Day।
আবিষ্কারের গল্প ধুলোমাখা ছবিতে এক নতুন দিগন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় অবস্থিত Lowell Observatory-তে কাজ করতেন তরুণ গবেষক Tombaugh। একের পর এক ফটোগ্রাফিক প্লেট তুলনা করে তিনি আকাশে ক্ষীণ গতিশীল একটি বস্তুর উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি একটি নতুন গ্রহ। নাম রাখা হয় ‘Pluto’। রোমান পুরাণের পাতাল দেবতার নামানুসারে।
প্লুটোর নামের প্রথম দুটি অক্ষর (P ও L) আবার অবজারভেটরির প্রতিষ্ঠাতা Percival Lowell-এর নামের আদ্যাক্ষরও বহন করে।যিনি বহু বছর ধরে অজানা গ্রহের সন্ধান করছিলেন।
গ্রহ থেকে বামন গ্রহ
দশকের পর দশক প্লুটো ছিল আমাদের স্কুলবইয়ের প্রিয় নবম গ্রহ। কিন্তু ২০০৬ সালে International Astronomical Union গ্রহের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ করে। নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী প্লুটো তার কক্ষপথের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে পারেনি। ফলে তাকে ‘ডোয়ার্ফ প্ল্যানেট’ বা বামন গ্রহ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। অনেকেই আবেগ নিয়ে বলেন, ‘প্লুটো এখনো আমাদের গ্রহ!’ Pluto Day তাই শুধু একটি আবিষ্কারের স্মরণ নয়, বরং বিজ্ঞানের পরিবর্তনশীল সংজ্ঞা ও জ্ঞানের বিবর্তনের প্রতীক।
ছোট হলেও বিস্ময়কর
প্লুটো সূর্য থেকে গড়ে প্রায় ৫.৯ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তার একটি বড় উপগ্রহ আছে ‘চারন’। প্লুটো ও চারনের সম্পর্ক এতটাই ঘনিষ্ঠ যে অনেক সময় তাদেরকে ‘ডাবল ডোয়ার্ফ সিস্টেম’ বলা হয়।
২০১৫ সালে New Horizons মহাকাশযান প্লুটোর পাশ দিয়ে উড়ে গিয়ে চমকপ্রদ ছবি পাঠায়। বরফাচ্ছন্ন পাহাড়, হৃদয়-আকৃতির সমভূমি— সব মিলিয়ে প্লুটো যেন এক রহস্যময় জগৎ।
কেন Pluto Day গুরুত্বপূর্ণ?
Pluto Day আমাদের মনে করিয়ে দেয়- বিজ্ঞান কখনো স্থির নয়। নতুন তথ্য এলে পুরোনো ধারণা বদলে যায়। এক সময় যে গ্রহ ছিল, আজ সে বামন গ্রহ; কিন্তু তার গুরুত্ব কমেনি। বরং প্লুটো আমাদের শিখিয়েছে কৌতূহল, অনুসন্ধান আর প্রশ্ন করার সাহস।
আকাশের দূরতম প্রান্তে থাকা ছোট্ট প্লুটো তাই শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিষয় নয়। এটি মানুষের অদম্য জানার ইচ্ছার প্রতীক।