Wednesday 18 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এন্ড্রয়েডের যে সুবিধা আইফোনেও নেই

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৩

স্মার্টফোনের বাজারে ‘অ্যাপল বনাম অ্যান্ড্রয়েড’ যুদ্ধ এক চিরন্তন বিতর্ক। অনেকের কাছে আইফোন থাকাটা আভিজাত্য বা স্ট্যাটাস সিম্বল হলেও, ব্যবহারের স্বাধীনতা ও ফিচারের নিরিখে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা প্রায়ই একধাপ এগিয়ে থাকেন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বে অ্যান্ড্রয়েডের কিছু ওপেন-সোর্স সুবিধা আইফোনের ‘বদ্ধ ইকোসিস্টেমে’ এখনো কল্পনাতীত।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের এমন ৭টি শক্তিশালী ফিচার নিয়ে আজকের বিশেষ প্রতিবেদন, যা আইফোন ব্যবহারকারীদের আজও ঈর্ষার কারণ…

১. স্প্যাম কল শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণ

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে প্রমোশনাল ও স্প্যাম কলের উপদ্রব। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল ডায়ালার বা ট্রুকলারের মতো অ্যাপগুলো যেভাবে ‘রিয়েল-টাইম’ কলার আইডি দেখাতে পারে, আইফোনে আইওএস-এর কড়া বিধিনিষেধের কারণে তা সম্ভব হয় না। অ্যান্ড্রয়েডে কল আসার আগেই স্প্যাম বা অপরিচিত নম্বরের বিস্তারিত তথ্য স্ক্রিনে ভেসে ওঠে, যা ব্যবহারকারীকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকে মুক্তি দেয়।

বিজ্ঞাপন

২. বাধাহীন কল রেকর্ডিং সুবিধা

পেশাদার প্রয়োজনে বিশেষ করে সাংবাদিক, আইনজীবী বা কর্পোরেট কর্মকর্তাদের জন্য কল রেকর্ড করা অপরিহার্য। অ্যান্ড্রয়েডে বিল্ট-ইন ফিচার বা থার্ড পার্টি অ্যাপের মাধ্যমে অনায়াসেই উভয় প্রান্তের স্বচ্ছ কল রেকর্ড করা যায়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কঠোর নীতির কারণে অ্যাপল আইফোনে সরাসরি কল রেকর্ডিংয়ের সুবিধা দেয় না, দিলেও তা বেশ জটিল এবং অন্য প্রান্তের ব্যক্তিকে সতর্ক করে দেয়।

৩. মাল্টিপল ইউজার ও ‘গেস্ট মোড’

আপনার ফোনটি কি অন্য কেউ বা শিশু ব্যবহার করে? অ্যান্ড্রয়েডে পিসির মতো একাধিক ইউজার প্রোফাইল বা ‘গেস্ট মোড’ তৈরি করা যায়। এর ফলে আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট, গ্যালারি বা ব্যাঙ্কিং অ্যাপগুলো সম্পূর্ণ আলাদা ও সুরক্ষিত থাকে। আইফোনের মতো দামী ডিভাইসে এখনো এই বেসিক মাল্টি-ইউজার সুবিধা যুক্ত করা হয়নি।

৪. ফাইল ম্যানেজমেন্ট ও ডেটা ট্রান্সফার

অ্যান্ড্রয়েডকে পিসির সঙ্গে কানেক্ট করলেই এটি একটি পেনড্রাইভের মতো কাজ করে। যেকোনো ফরম্যাটের ফাইল সহজে ডাউনলোড, মুভ বা ইমেইলে অ্যাটাচ করা যায়। আইফোনের ‘ফাইলস’ অ্যাপ আগের চেয়ে উন্নত হলেও ব্লুটুথ বা ক্যাবলের মাধ্যমে পিসিতে ফাইল আদান-প্রদানে অ্যান্ড্রয়েডের মতো স্বাধীনতা সেখানে মেলা ভার।

৫. স্টোরেজ ও ক্লাউড ব্যাকআপে বিশাল ব্যবধান

অ্যাপল ব্যবহারকারীদের মাত্র ৫ জিবি ফ্রি ‘আইক্লাউড’ স্টোরেজ দেয়, যা ব্যাকআপ নিতে গেলেই দ্রুত ফুরিয়ে যায়। বিপরীতে, অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা শুরুতেই ১৫ জিবি গুগল ড্রাইভ স্টোরেজ ফ্রি পান। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েডে গুগল ফটোজের ব্যাকআপ যেভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে, আইফোনে অনেক সময় অ্যাপটি ওপেন না রাখলে ব্যাকআপ থমকে যায়।

৬. ‘অ্যাপ ক্লোনিং’ ও ডুয়াল অ্যাকাউন্টের স্বাধীনতা

একই ফোনে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ, দুটি মেসেঞ্জার বা দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুবিধা (App Clone) প্রায় সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই ডিফল্ট থাকে। আইফোনে সরাসরি এই সুবিধা নেই। যারা অফিস এবং ব্যক্তিগত জীবন আলাদা রাখতে দুটি সিম ব্যবহার করেন, তাদের জন্য আইফোন বেশ সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।

৭. রিয়েল মাল্টি-টাস্কিং ও স্প্লিট স্ক্রিন

অ্যান্ড্রয়েডে একই সঙ্গে স্ক্রিনে দুটি অ্যাপ (Split Screen) ব্যবহার করা যায়। যেমন—উপরে জুম মিটিং বা ইউটিউব চালিয়ে নিচে নোটপ্যাডে লেখা বা চ্যাটিং করা সম্ভব। আইফোনের বড় পর্দার প্রো ম্যাক্স মডেলগুলোতেও এই মাল্টি-টাস্কিং সুবিধা অ্যান্ড্রয়েডের মতো সাবলীল বা কার্যকর নয়।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

এন্ড্রয়েডের যে সুবিধা আইফোনেও নেই
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৩

আরো

সম্পর্কিত খবর