Thursday 19 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘টাগ অব ওয়ার ডে’: দড়ির টানাটানির আনন্দ ও ঐতিহ্যময় ১টি দিন

ফারহানা নীলা স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৭

দড়ির দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে দু’দল মানুষ, মাঝখানে সাদা দাগ, আর একসঙ্গে ধরা নিঃশ্বাস। এরপর হুইসেল বাজতেই শুরু টান। মুহূর্তেই জমে ওঠে উত্তেজনা। ১৯ ফেব্রুয়ারি পালিত ‘টাগ অব ওয়ার ডে’ সেই সহজ-সরল অথচ রোমাঞ্চকর খেলাটিকেই স্মরণ করায়, যাকে আমরা বাংলায় বলি দড়ি টানাটানি।

এই খেলাটি শুধু গ্রামীণ মেলা বা স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অংশ নয়; এর শিকড় বহু প্রাচীন। ইতিহাসবিদদের মতে, চীন, ভারত, মিশরবিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতায় দড়ি টানাটানির মতো প্রতিযোগিতার প্রচলন ছিল। সময়ের সঙ্গে এটি পরিণত হয়েছে দলগত শক্তি ও ঐক্যের প্রতীকে।

অলিম্পিকের মঞ্চেও ছিল দড়ি টানাটানি

অনেকে জানেন না, দড়ি টানাটানি একসময় অলিম্পিক ইভেন্টও ছিল। ১৯০০ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত অলিম্পিক গেমস -এ ‘Tug of War’ বা দড়ি টানাটানি অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন দেশের দল নিজেদের শক্তি ও কৌশল দিয়ে লড়াই করত। পরে এটি বাদ পড়লেও খেলাটির জনপ্রিয়তা কমেনি।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে খেলাটি পরিচালনা করে Tug of War International Federation। বিশ্বজুড়ে নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতা আয়োজন হয়, যেখানে ওজনভিত্তিক দল গঠন থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট মাপের দড়ি সবকিছুরই নিয়ম আছে।

শক্তি নয়, কৌশলই আসল

বাইরে থেকে মনে হতে পারে, শুধু বেশি শক্তিশালী দলই জেতে। কিন্তু আসল রহস্য লুকিয়ে আছে সমন্বয় আর কৌশলে। কে সামনে দাঁড়াবে, কে ‘অ্যাঙ্কর’ হয়ে পেছনে ভর দিয়ে থাকবে, কখন একসঙ্গে টান দিতে হবে, এসবই নির্ধারণ করে জয়-পরাজয়।

একসঙ্গে ছন্দে টান দেওয়ার মধ্যে যে দলগত ঐক্য তৈরি হয়, তা অনেক সময় করপোরেট ট্রেনিং বা টিম-বিল্ডিং কর্মশালায়ও ব্যবহার করা হয়। কারণ, এই খেলায় বোঝা যায়, একজন নয়, সবাই মিলে টানলেই জয় আসে।

গ্রামবাংলা থেকে বিশ্বমঞ্চ

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে নববর্ষের মেলা, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান কিংবা স্কুল স্পোর্টস ডে, সবখানেই দড়ি টানাটানির দৃশ্য চিরচেনা। মাটিতে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে হাসি-ঠাট্টার মাঝে প্রতিযোগিতা, আর চারপাশে দর্শকের উল্লাস-এ যেন এক আলাদা উৎসব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবার এটি ঐতিহ্যবাহী উৎসবের অংশ। জাপান, কোরিয়া কিংবা ইউরোপের কিছু অঞ্চলে হাজারো মানুষ একসঙ্গে বিশাল দড়ি টেনে প্রতীকী ঐক্যের বার্তা দেয়।

কেন আলাদা একটি ‘ডে’?

দড়ি টানাটানি মূলত খেলাটির ঐতিহ্য, ঐক্য ও বিনোদনমূল্যকে উদযাপন করার একটি অনানুষ্ঠানিক দিবস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এদিন অনেকে পুরোনো স্মৃতি শেয়ার করেন, স্কুল-কলেজে ছোটখাটো প্রতিযোগিতা আয়োজন হয়, আবার কেউ কেউ শুধু মজার ছলে বন্ধুদের নিয়ে খেলেন।
এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে সহজ-সরল খেলাগুলোরও আলাদা মূল্য আছে। একটি দড়ি আর কিছু মানুষ;এই সামান্য আয়োজনই তৈরি করতে পারে অসাধারণ আনন্দ।

টানাপোড়েনের মধ্যেই বন্ধুত্ব

দড়ি টানাটানি মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কিন্তু তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে হাসি আর বন্ধুত্ব। খেলা শেষে দু’দলই হাঁপাতে হাঁপাতে হাসে, হাত মেলায়। সেই মুহূর্তে জয়-পরাজয় তেমন গুরুত্বপূর্ণ থাকে না; গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে একসঙ্গে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা।

১৯ ফেব্রুয়ারির এই মজার দিবস তাই শুধু একটি খেলার দিন নয়। এটি দলগত শক্তি, ঐক্য আর সরল আনন্দের উদযাপন। দড়ির দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে টানতে টানতে আমরা যেন মনে করি – জীবনেও টানাপোড়েন আছে, কিন্তু একসঙ্গে থাকলে সেই টান সামলানো সহজ হয়ে যায়।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর