Wednesday 25 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মক্কার পবিত্রতা ও মসজিদুল হারামের ঐতিহাসিক মর্যাদা

সানজিদা যুথী সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৮ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৫

মক্কা— পৃথিবীর বুকে এক অনন্য পবিত্র শহর। মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে এই নগরীর স্থান অতুলনীয়। কা’বা ঘরের কারণে মক্কাকে বলা হয় ‘বাইতুল আতিক’-এর শহর। কুরআনে আল্লাহ তা’আলা মক্কাকে বিভিন্ন নামে উল্লেখ করেছেন— মক্কা, বাক্কা, আল-বালাদ, আল-কারিয়াহ ও উম্মুল কুরা। এসব নামই প্রমাণ করে এই শহরের বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব।

রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কার প্রতি তার গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করে বলেছেন, “হে মক্কা, তুমি আল্লাহর জমিনের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আমাকে যদি তোমা হতে বের করে না দেওয়া হতো, আমি কখনোই তোমাকে ত্যাগ করতাম না।” এই হাদিস মক্কার আধ্যাত্মিক মর্যাদাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

বিজ্ঞাপন

মক্কা শুধু একটি শহর নয়, এটি নিরাপত্তা ও শান্তির প্রতীক। ইসলামী বর্ণনায় রয়েছে— এই শহরে মহামারী ও দজ্জালের প্রবেশ ঘটবে না। ফেরেশতারা এর প্রবেশপথ পাহারা দেন। এখানে নেক আমলের প্রতিদান যেমন বহুগুণ বেশি, তেমনি গুনাহের পরিণতিও কঠিন। তাই মক্কা মুসলমানদের জন্য ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য ক্ষেত্র।

মক্কার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত কা’বা—ইসলামের প্রথম ঘর। এই কা‘বাকে ঘিরেই অবস্থিত মসজিদুল হারাম। এখানেই মুসলমানরা তাওয়াফ ও সালাত আদায় করেন। হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু হয়ে ইরাকি, শামি ও ইয়েমেনি কর্নার ঘুরে তাওয়াফ সম্পন্ন হয়। হাদিসে বর্ণিত আছে, মসজিদুল হারামে এক রাকাত সালাত আদায় করলে তার সওয়াব এক লাখ গুণ বৃদ্ধি পায়।

ইতিহাসে দেখা যায়, রাসূল (সা.)-এর সময় থেকেই মসজিদুল হারামের চারপাশে বসতি গড়ে ওঠে। খোলাফায়ে রাশেদিন যুগে হজরত উমর (রা.) ও হজরত উসমান (রা.) মসজিদের পরিসর বৃদ্ধি করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মুসলিম শাসকের হাত ধরে এই মসজিদ আরও সম্প্রসারিত হয়। আধুনিক যুগে সৌদি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ও বাদশাহ ফাহাদের শাসনামলে ব্যাপক সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মার্বেল পাথর, সুদৃশ্য মিনার, দোতলা ও ছাদে সালাতের ব্যবস্থা— সব মিলিয়ে এটি আজ বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদ।

মক্কা ও মসজিদুল হারামের ইতিহাস কেবল স্থাপত্যের নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বিশ্বাস ও আত্মিক শক্তির প্রতীক। এখানে লাখো মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সামনে নত হয়— ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির সব ভেদাভেদ ভুলে। এই পবিত্র ভূমি মুসলিম জীবনের জন্য শুধু ইতিহাস নয়, বরং ঈমানের আলো ও আত্মার শান্তির চিরন্তন ঠিকানা।

বিজ্ঞাপন

প্রচারণায় বুবলী
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৭

আরো

সানজিদা যুথী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর