প্রযুক্তির দ্রুত উত্থানে আয়ের প্রথাগত ধারণা এখন সেকেলে হয়ে পড়েছে। এক সময় উপার্জন মানেই ছিল নির্দিষ্ট কোনো অফিসে হাজিরা দেওয়া, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) সেই সংজ্ঞাকে আমূল বদলে দিয়েছে। এই পরিবর্তনের কাণ্ডারি হিসেবে বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘চ্যাটজিপিটি’ (ChatGPT)। ওপেনএআই-এর তৈরি এই শক্তিশালী টুলটি ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিং থেকে শুরু করে অনলাইন ব্যবসা, সবক্ষেত্রেই মানুষ এখন তৈরি করছে নতুন নতুন আয়ের উৎস।
চ্যাটজিপিটিকে কাজে লাগিয়ে আপনিও যেভাবে নিয়মিত আয়ের পথ তৈরি করতে পারেন, তারই একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা নিচে তুলে ধরা হলো…
* ফ্রিল্যান্স রাইটিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন
চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ব্লগ পোস্ট, আর্টিকেল, স্ক্রিপ্ট কিংবা ই-কমার্স সাইটের প্রোডাক্ট ডিসক্রিপশন লেখা এখন অনেক সহজ। আপনি ফাইবার (Fiverr) বা আপওয়ার্ক (Upwork)-এর মতো আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কনটেন্ট রাইটার হিসেবে কাজ করতে পারেন। চ্যাটজিপিটি আপনাকে আইডিয়া জেনারেট করা এবং খসড়া তৈরিতে সাহায্য করবে, যা আপনার কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
* সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ও কপিরাইটিং
অনেক দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম পেজের জন্য নিয়মিত পোস্ট ও ক্যাপশন তৈরির লোক খোঁজে। আপনি চ্যাটজিপিটির সাহায্যে তাদের জন্য মাসিক ‘কনটেন্ট ক্যালেন্ডার’ এবং আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের কপি তৈরি করে দিয়ে স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি করতে পারেন।
* ইউটিউব স্ক্রিপ্ট রাইটিং
একটি ভালো ইউটিউব ভিডিওর প্রাণ হলো এর স্ক্রিপ্ট। চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে যেকোনো বিষয়ের ওপর তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয় ভিডিও স্ক্রিপ্ট তৈরি করা যায়। আপনি নিজের চ্যানেল খোলার পাশাপাশি বড় বড় ইউটিউবারদের কাছে স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে সার্ভিস দিয়েও আয় করতে পারেন।
* ডিজিটাল প্রোডাক্ট ও ই-বুক তৈরি
ই-বুক, গাইডলাইন, কিংবা চেকলিস্টের মতো ডিজিটাল প্রোডাক্ট তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করা এখন লাভজনক ব্যবসা। চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে খুব দ্রুত বইয়ের অধ্যায় বা কোর্সের আউটলাইন সাজিয়ে নেওয়া সম্ভব। এগুলো আমাজন কিন্ডল বা নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিক্রি করে প্যাসিভ ইনকাম করা যায়।
* অনলাইন টিউটরিং ও কোর্স ডিজাইন
আপনি যদি শিক্ষকতা করতে চান, তবে চ্যাটজিপিটি আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। এটি ব্যবহার করে পাঠ পরিকল্পনা (Lesson Plan), জটিল বিষয়ের সহজ ব্যাখ্যা এবং কুইজ তৈরি করা যায়। এর মাধ্যমে আপনি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অনলাইন টিউটর হিসেবে কাজ করতে পারেন।
* কোডিং ও কারিগরি সেবা (Tech Service)
প্রোগ্রামারদের জন্য চ্যাটজিপিটি একটি শক্তিশালী সহায়ক। এর মাধ্যমে কোড লেখা, ডিবাগিং (ভুল সংশোধন) এবং অটোমেশন টুল তৈরি করা সম্ভব। যারা ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট বা অ্যাপ তৈরির কাজ করেন, তারা চ্যাটজিপিটির সাহায্যে দ্রুত প্রজেক্ট শেষ করে বেশি ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল করতে পারছেন।