Thursday 26 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তায়েফ: পাহাড়, ইতিহাস আর নবীজির স্মৃতিতে ভেজা এক স্বর্গীয় শহর

সানজিদা যুথী সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৩ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:২৯

পবিত্র মক্কা থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পূর্বে, পাহাড়ে ঘেরা এক মোহনীয় শহরের নাম তায়েফ। এই শহর শুধু ঐতিহাসিক নয়, বরং প্রকৃতি ও আবেগের এক অনন্য মিলনস্থল। শহরের চারপাশে উঁচু পাহাড়ের কোলে ভিজে থাকা কণ্ঠস্বর, পাহাড়ি বাতাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন ভ্রমণকারীদের মন ভরে তোলে।

মক্কা থেকে তায়েফে পৌঁছানোর রাস্তা আঁকাবাঁকা ও পাহাড়ি, যা সফরকে আরও চ্যালেঞ্জিং এবং রোমাঞ্চকর করে তোলে। এক পাশে উঁচু পাহাড়, অন্য পাশে গভীর খাদ— এমন অবস্থায় হাঁটতে হাঁটতে নিশ্বাস ভারী হয়ে যায়, কান বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু চোখের সামনে ঝকঝকে নীল আকাশ চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। মরুভূমির দেশে এমন আকাশ বিরল।

বিজ্ঞাপন

প্রতিটি পর্যটক ও হাজিরা এখানে সময় কাটানোর চেষ্টা করেন। তবে তায়েফকে পুরোপুরি বুঝতে হলে অন্তত একটি দিন খালি রাখতে হয়। আকাশ, আলো ও আবহ চারপাশে ক্রমশ বদলায়— দুপুরের তাপে পাহাড়ি ছায়া আর বিকেলের সোনালি আলো শহরের সৌন্দর্যকে আরও তেজস্বী করে তোলে। রাতের তায়েফ সত্যিই মোহনীয়, পাহাড়ের আলো-ছায়ার খেলা যেন শহরকে অন্য এক রূপে ধরা দেয়।

ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকেও তায়েফ গুরুত্বপূর্ণ। নবুওয়াতপ্রাপ্তির পর রাসূলুল্লাহ (সা.) ইসলামের দাওয়াত নিয়ে এই শহরে এসেছিলেন। কিন্তু এখানে তিনি যে অত্যাচার ও নিগ্রহের মুখোমুখি হয়েছেন, তা ইতিহাসের পৃষ্ঠায় গভীর বেদনার নাম হিসেবে লেখা আছে। রক্তাক্ত অবস্থায় যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন নবীজি, আজ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ-এ আদ্দাস, যা নীরবে সাক্ষ্য দেয় মহান ধৈর্য ও ক্ষমার ইতিহাস।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ছয় হাজার ফুট উঁচু এই শহর একসময় সৌদি আরবের শীতকালীন রাজধানী হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল। এখানে ওআইসি’র শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা শহরের কূটনৈতিক গুরুত্বকেও প্রমাণ করে।

তায়েফ বিখ্যাত তার ফলের জন্য— আঙুর, কমলা, আনারস এবং বিশেষ করে আঙুর। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইবনে আব্বাস মসজিদ, যেখানে শায়িত আছেন বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)। মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে আরও বহু সাহাবির কবর রয়েছে।

আজকের তায়েফ শুধুই ইতিহাস নয়— এখানে রয়েছে পাহাড়ঘেঁষা রিসোর্ট, পার্ক, কেবল কার এবং ওকাজ অঞ্চলের ফলের বাজার। বিকেলে শিশুদের খেলাধুলা, উট চড়ার আনন্দ এবং পাহাড়ি ট্রেলের সৌন্দর্য ভ্রমণকারীদের আনন্দ দেয়। পাহাড় থেকে নেমে রাস্তার ধারে দেখা সারি সারি বানরের দল যেন ভ্রমণের শেষ উপহার।

এই পথ ধরেই মিকাত জিল মাহরাম থেকে ইহরাম বেঁধে মহান রবের নামে উমরাহর নিয়ত করে ফিরেন মক্কার দিকে। সব প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর, যিনি পাহাড়ে পাহাড়ে ইতিহাস ও সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছেন।

তায়েফ— শুধু পাহাড় নয়, ইতিহাস, প্রকৃতি ও ঈমানের এক অনন্য মিলনস্থল।

সারাবাংলা/এসজে/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সানজিদা যুথী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর