এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষই চায় একটুখানি স্বস্তি, সুখ আর নিরাপত্তা। মানুষ শান্তির খোঁজে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ায়, অথচ প্রকৃত প্রশান্তি ও নিরাপত্তার চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে মহান আল্লাহর আনুগত্য ও ইসলামের শাশ্বত বিধানের মাঝে। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনে প্রকৃত স্বস্তি ও নিরাপত্তা লাভের কিছু কার্যকর উপায় নিচে তুলে ধরা হলো…
* বিশুদ্ধ ঈমান লালন করা
শান্তিপূর্ণ জীবনের প্রধান শর্ত হলো নির্ভেজাল ঈমান। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, যারা ঈমান আনে এবং তাতে শিরক বা জুলুমের মিশ্রণ ঘটায় না, প্রকৃত নিরাপত্তা ও হেদায়েত কেবল তাদের জন্যই (সুরা আনআম: ৮২)।
* দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা
বিপদ-আপদে ঘাবড়ে না গিয়ে যারা ইসলামের ওপর শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, আল্লাহ তাদের অন্তরে বিশেষ প্রশান্তি (সাকিনা) অবতীর্ণ করেন। যেমনটি হুদায়বিয়ার প্রান্তরে সাহাবায়ে কেরামদের ক্ষেত্রে হয়েছিল (সুরা ফাতহ: ১৮)।
* নেক আমলের প্রাচুর্য
সৎকর্ম বা পুণ্য মানুষের জীবন থেকে অশান্তি দূর করে। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, যারা ঈমান ও সৎকর্মে লিপ্ত থাকবে, তিনি তাদের পৃথিবীতে নেতৃত্ব দেবেন এবং ভয়ভীতি দূর করে নিরাপত্তা দান করবেন (সুরা নূর: ৫৫)।
* মহান আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল)
যেকোনো পরিস্থিতিতে ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল’ (আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট) বলে আল্লাহর ওপর নির্ভর করলে আল্লাহ সেই বান্দার জন্য সহজ পথ বের করে দেন এবং অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন (সুরা আলে ইমরান: ১৭৩-১৭৪)।
* জিকিরের মাধ্যমে অন্তর সজীব রাখা
মানুষের অন্তর তখনই প্রশান্ত হয় যখন তাতে আল্লাহর স্মরণ থাকে। কুরআনের অমোঘ ঘোষণা- “জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়” (সুরা রাআদ: ২৮)।
* আল্লাহর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়া
বান্দা যখন আল্লাহর ‘ওলি’ বা বন্ধু হয়ে যায়, তখন তার আর কোনো ভয় বা দুশ্চিন্তা থাকে না। এই ঐশ্বরিক ভালোবাসা মানুষকে দুনিয়াবি সব অস্থিরতা থেকে মুক্তি দেয় (সুরা ইউনুস: ৬২)।
* পাপ পঙ্কিলতা বর্জন করা
গুনাহ বা পাপ মানুষের মনে অশান্তি ও ভয়ের সৃষ্টি করে। পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ধ্বংসের মূল কারণ ছিল তাদের অপরাধ। তাই পাপ ত্যাগের মাধ্যমেই জীবনের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব (সুরা আনকাবুত: ৪০)।
* তাকওয়া বা আল্লাহভীতির জীবন
যিনি আল্লাহকে ভয় করে চলেন, আল্লাহ তার জন্য রিযিকের এমন উৎস খুলে দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। তাকওয়া কঠিন সমস্যাকে সহজ করে দেয় এবং গুনাহ মাফের পথ প্রশস্ত করে (সুরা তালাক: ২-৫)।
* শোকরগুজারি বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে বরকত বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে অকৃতজ্ঞতা জীবনে অভাব ও অস্থিরতা ডেকে আনে (সুরা নাহল: ১১২)।
* অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সৎকাজের আদেশ
সমাজে যখন অন্যায় ও পাপাচার বেড়ে যায় এবং কেউ প্রতিবাদ করে না, তখন আল্লাহর গজব ও অশান্তি নেমে আসে। তাই সামাজিক নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য ‘আমর বিল মারুফ’ বা সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ অপরিহার্য (সুরা মায়িদা: ৭৯)।
উল্লেখ্য, জীবনের প্রতিটি ধাপে ইসলামের এই শিক্ষাগুলো ধারণ করতে পারলে কেবল ব্যক্তিজীবন নয়, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও স্বস্তি ও নিরাপত্তার সুবাতাস বয়ে যাবে।