ইসলামি শরিয়তে রোজাদারকে ইফতার করানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আমরা সাধারণত রমজান মাসেই এই আমলটির প্রতি বেশি আগ্রহী থাকি। তবে রমজানের বাইরে সারা বছর যারা নফল রোজা রাখেন, তাদের ইফতার করানোর গুরুত্ব ও ফজিলতও অপরিসীম। সামান্য প্রচেষ্টায় অন্যের ইবাদতের সমান অংশীদার হওয়ার এটি এক চমৎকার সুযোগ।
* সমান সওয়াব অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ
নফল রোজাদারকে ইফতার করালে আপনি সেই রোজাদারের সমান সওয়াব লাভ করবেন, অথচ তার সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার (রোজাদারের) সমান প্রতিদান পাবে; তবে এতে রোজাদারের সওয়াব থেকে সামান্যও হ্রাস করা হবে না।’ (সুনানে তিরমিজি: ৮০৭)
এর অর্থ হলো, কেউ যদি শাওয়ালের রোজা বা সাপ্তাহিক সুন্নাত রোজা রাখে এবং আপনি তাকে ইফতার করান, তবে আপনি নিজে রোজা না রেখেও একটি পূর্ণ রোজার সওয়াব আপনার আমলনামায় যোগ করতে পারছেন।
* ফেরেশতাদের বিশেষ দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা
নফল রোজাদারের সামনে খাবার গ্রহণ করা বা তাকে আপ্যায়ন করার মধ্যে বিশেষ বরকত রয়েছে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, যখন কোনো রোজাদারের উপস্থিতিতে অন্যরা খাবার খায়, তখন ফেরেশতারা সেই আপ্যায়নকারীর জন্য আল্লাহর কাছে রহমত ও মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকেন। (সুনানে তিরমিজি: ৭৮৪)। এটি নফল রোজার ক্ষেত্রে এক বিশেষ মর্যাদা।
* সামান্য আহারেও বিশাল প্রতিদান
ইফতার করানোর সওয়াব পেতে যে খুব রাজকীয় আয়োজন করতে হবে, বিষয়টি তেমন নয়। সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য কিছু দিয়ে সাহায্য করলেও আল্লাহ পূর্ণ সওয়াব দান করেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন:
‘আল্লাহ তাআলা এই সওয়াব সেই ব্যক্তিকেও দেবেন, যে কোনো রোজাদারকে এক চুমুক দুধ, একটি খেজুর বা সামান্য পানি দিয়ে ইফতার করাবে।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা: ১৮৮৭)
* সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন
নফল রোজা সাধারণত মানুষ নিভৃতে রাখে। যখন আপনি জানবেন আপনার কোনো ভাই, বন্ধু বা প্রতিবেশী নফল রোজা রেখেছেন এবং তাকে ইফতারের দাওয়াত দেবেন বা খাবার পাঠিয়ে দেবেন, তখন এটি আপনাদের মাঝে ভালোবাসা ও আত্মিক বন্ধন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। এটি কেবল একটি আমল নয়, বরং একটি চমৎকার সামাজিক শিষ্টাচারও বটে।
* আমলনামা সমৃদ্ধ করার সহজ পথ
কষ্ট ছাড়াই অতিরিক্ত সওয়াব কামাই করার এর চেয়ে সহজ উপায় আর কী হতে পারে? শাওয়ালের ছয় রোজা, প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারের সুন্নাত রোজা কিংবা আইয়ামে বিজের রোজার সময় আমরা যদি ইফতার করানোর এই সংস্কৃতি চালু করি, তবে আমাদের সমাজ ইবাদতের নূরে আলোকিত হয়ে উঠবে।
উল্লেখ্য, নফল রোজাদারকে ইফতার করানো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের এক সংক্ষিপ্ত পথ। অন্যের নেক কাজে সহযোগিতা করে নিজের আখেরাতকে সমৃদ্ধ করার এই সুযোগ আমাদের হেলায় হারানো উচিত নয়।