Monday 06 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রিজিক ও সম্পদে বরকত পাওয়ার সহজ ৫টি পথ

সারাবাংলা ডেস্ক
৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২৫

জীবনধারণের জন্য রিজিক বা জীবিকা অন্বেষণ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেকেরই সাধারণ অভিযোগ, ‘উপার্জন অনেক করি, কিন্তু তাতে বরকত নেই।’ আসলে রিজিক কেবল অংকের হিসাব নয়; বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নেয়ামত। ইসলামি জীবনদর্শন অনুযায়ী, আমল ও জীবনযাপনের শুদ্ধতা রিজিকে অভাবনীয় বরকত নিয়ে আসে।

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে রিজিকে প্রাচুর্য ও বরকত লাভের গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপায় নিচে আলোচনা করা হলো:

ইস্তিগফার: সংকট মুক্তির চাবিকাঠি

মানুষের পাপ ও অন্যায় অনেক সময় রিজিকের পথ রুদ্ধ করে দেয়। এজন্য মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা বা ইস্তিগফার করা জরুরি। পবিত্র কুরআনে সুরা নুহ-এর ১০-১২ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করেন। রাসুল (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, নিয়মিত ইস্তিগফারি ব্যক্তিকে আল্লাহ অভাবনীয় উৎস থেকে রিজিক দান করেন।

বিজ্ঞাপন

দরুদ পাঠ: দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনের মহৌষধ

রিজিকে বরকত না থাকলে মানুষের মনে অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা জেঁকে বসে। হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার যাবতীয় দুশ্চিন্তা দূর করে দেন। আর প্রশান্ত মনই হলো একজন মুমিনের জীবনের বড় রিজিক। দুশ্চিন্তা দূর হলে কর্মস্পৃহা বাড়ে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে উপার্জনে।

দান-সদকা: সম্পদ বৃদ্ধির ঐশ্বরিক মাধ্যম

সাধারণ দৃষ্টিতে দান করলে সম্পদ কমে মনে হলেও, আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে এটি সম্পদকে পবিত্র ও বৃদ্ধি করে। সুরা সাবা-তে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা যা ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেবেন।’ সদকা করলে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ-আপদ ও অপচয় কমে যায়, ফলে উপার্জিত অল্প সম্পদেও দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণ লাভ করা সম্ভব হয়।

আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা

সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন কেবল সম্পর্কের খাতিরে নয়, বরং রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম হাতিয়ার। বুখারি শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, যারা দীর্ঘায়ু এবং রিজিকে প্রাচুর্য চায়, তাদের উচিত আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। রক্ত সম্পর্কীয়দের খোঁজখবর নেওয়া ও বিপদে পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ নিজ কুদরতে বান্দার রিজিকের দুয়ার খুলে দেন।

তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন

উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বাছবিচার করা এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করাই হলো তাকওয়া। সুরা তালাক-এ মহান আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করবে, আল্লাহ তাকে এমন স্থান থেকে রিজিক দেবেন যা তার কল্পনাতীত। ফাঁকি বা প্রতারণা সাময়িক লাভ দিলেও দীর্ঘমেয়াদে বরকত কেড়ে নেয়; পক্ষান্তরে আল্লাহভীতি জীবনে স্থায়ী প্রশান্তি আনে।

বিশেষ আমল: অনেক বিশেষজ্ঞ আলেম অভাবমুক্তির জন্য নিয়মিত সুরা ওয়াকিয়াহ তিলাওয়াতের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কুরআন মাজিদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করলে দুনিয়াবি অভাব-অনটন দূর হয় এবং মানুষের দৃষ্টি আখিরাতমুখী হয়।

উল্লেখ্য, রিজিক মানে শুধু কাড়ি কাড়ি টাকা নয়; বরং সুস্থতা, নেক সন্তান এবং অল্পে তুষ্ট থাকাও রিজিকের অংশ। আমরা যদি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ইস্তিগফার, দরুদ, সদকা এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের মতো আমলগুলো যুক্ত করতে পারি, তবে আমাদের সংকীর্ণ জীবনে আল্লাহর রহমতের বারতা বয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ।