এক সময় সুরকার বা মিউজিক স্টুডিও ছাড়া নিজের গান তৈরির কথা ভাবাই যেত না। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) সেই ধারণাকে আমূল বদলে দিচ্ছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল তাদের জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট ‘জেমিনি’-তে যুক্ত করেছে মিউজিক তৈরির দুর্দান্ত এক ফিচার। এর মাধ্যমে এখন যে কেউ নিজের স্মার্টফোন ব্যবহার করেই পছন্দমতো গান বা সুর সৃষ্টি করতে পারবেন।
আসুন জেনে নেই স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী গান তৈরির উপায়…
* লিরিয়া ৩ প্রো: এআই মিউজিকের নতুন বিপ্লব
গুগলের এই ফিচারের পেছনে কাজ করছে তাদের অত্যাধুনিক এআই মডেল ‘লিরিয়া ৩ প্রো’ (Lyria 3 Pro)। আগে যেখানে এআই দিয়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ছোট অডিও ক্লিপ তৈরি করা যেত, নতুন এই আপডেটের ফলে এখন টানা ৩ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গ গান তৈরি করা সম্ভব। ফলে আপনার তৈরি গানগুলো এখন কেবল লুপ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সংগীতের রূপ পাবে।
* পেশাদার মিউজিক কম্পোজিশনের স্বাদ
গুগল জানিয়েছে, এই ফিচারটি কেবল যান্ত্রিক কোনো সুর তৈরি করবে না। ব্যবহারকারীরা চাইলে গানের প্রতিটি অংশ যেমন, শুরু (Intro), অন্তরা (Verse), মূল সুর (Chorus) কিংবা ব্রিজ, আলাদাভাবে নির্দেশনা দিয়ে তৈরি করতে পারবেন। এতে গানগুলো শুনতে একদম পেশাদার স্টুডিওতে রেকর্ড করা মিউজিকের মতো মনে হবে।
কাদের জন্য এই ফিচার?
এই প্রযুক্তি বহুমুখী কাজে ব্যবহার করা সম্ভব…
* কনটেন্ট ক্রিয়েটর: ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওর জন্য কপিরাইট-মুক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তৈরিতে।
* শিক্ষার্থী: পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর জন্য বিশেষ ইনস্ট্রুমেন্টাল সুর তৈরিতে।
* উদ্যোক্তা: ছোট ব্যবসার বিজ্ঞাপন বা জিঙ্গেল (Jingle) বানাতে।
* ডেভেলপার: বিভিন্ন অ্যাপ বা গেমের সাউন্ডট্র্যাক তৈরিতে।
ইন্ডাস্ট্রির সেরাদের পছন্দ
গুগল এই মডেলটি তৈরির সময় বিশ্ববিখ্যাত মিউজিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে। গ্র্যামি জয়ী প্রযোজক ইয়াং স্পিলবার্গ এবং প্রখ্যাত ডিজে ফ্রাঁসোয়া কে-এর মতো ব্যক্তিত্বরা ইতোমধ্যেই এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে প্রশংসা করেছেন।
যেসব প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে
জেমিনি ছাড়াও গুগল তাদের অন্যান্য শক্তিশালী মাধ্যম যেমন,গুগল ভিডস, ভার্টেক্স এআই এবং এআই স্টুডিওতে এই মিউজিক প্রযুক্তি যুক্ত করছে। ফলে প্রফেশনাল এডিটর থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারী, সবাই এই সুবিধার আওতায় আসবে।